সিসি ক্যামেরা ও যন্ত্রপাতি লুট-ভাঙচুর, ছোরাসহ আটক ২

চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগে সালমানের স্টুডিওতে হামলা

  •  রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
  • সালমানের দাবি, চাঁদাবাজির ঘটনার জেরে হামলা হয়েছে; তবে পুলিশ বলছে, জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা।
  • হামলায় সিসি ক্যামেরা, পেশাদার যন্ত্রপাতি ও আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; ঘটনাস্থল থেকে ছোরাসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগে সালমানের স্টুডিওতে হামলা
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৩৫  

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজ এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় স্টুডিওর সিসি ক্যামেরা, পেশাদার যন্ত্রপাতি, আসবাবসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট হয়েছে। 

সূত্রমতে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল ওই এলাকায় ঢুকে হামলা চালায় বলে স্টুডিওর এক কর্মী জানিয়েছেন। তাদের কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। হামলার সময় দুই কর্মী টয়লেটে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে তাদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

হামলার পর রাত ১টা ৩৩ মিনিটে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান মুক্তাদির। ভিডিওতে তিনি স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন এবং জানান, হামলায় তার কোনো কর্মী আহত হননি।

সালমানের দাবি, চাঁদা চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্টুডিওটি যে আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত, সেই প্রকল্পের জমির মালিকের সঙ্গে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো বিরোধের জেরেই হামলা হয়ে থাকতে পারে এবং এর মধ্যে তার স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের উদ্দেশে সালমান বলেন, দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের তোষামুদি না করলে নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে গড়ে তোলা তাঁর স্বপ্ন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার পর আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

অন্য একটি ভিডিওতে হামলাকারীদের বিএনপির কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন সালমান। তবে এই রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের বক্তব্যেও হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো উল্লেখ নেই।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ইসিবি চত্বরে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে একটি অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ছোরাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে অন্তত ২৯টি সিসি ক্যামেরা ছিল। হামলায় এসব ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টুডিওটি পডকাস্ট, বিজ্ঞাপন, ফটোশুট, প্রযুক্তি-সংক্রান্ত কাজ, গাড়ির শুট, রিল, চলচ্চিত্র ও সংগীত প্রযোজনাসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।

ঘটনার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। সালমান জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তাঁর রয়েছে; তবে কর্মীদের ওপর ঘটনার মানসিক প্রভাব নিয়েই তিনি বেশি উদ্বিগ্ন।

এদিকে হামলার কারণ নিয়ে সালমানের চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং পুলিশের জায়গা দখলকেন্দ্রিক বিরোধের বক্তব্য—দুটি বিষয়ই সামনে এসেছে। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ, কারা এতে জড়িত এবং লুট হওয়া সামগ্রীর কী পরিমাণ উদ্ধার হয়েছে—এসব এখন তদন্তের বিষয়।

//ডিবিটেক/ এসএমই/ এমএসআই/সিপিএম//