ডিমের দাম কমলেও বাড়তি সবজির দাম, স্বস্তি নেই মাছ ও মাংসে

আগের মতোই সরবরাহ কমার কারণে রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে কমেছে নিম্নবিত্ত মানুষের আমিষের জোগান দেওয়া ডিমের দাম। এছাড়া মাছ ও মুরগির বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। রাজধানীর শান্তিনগর ও বাসাবো বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ১০ টাকা কমে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক ডজনের […] The post ডিমের দাম কমলেও বাড়তি সবজির দাম, স্বস্তি নেই মাছ ও মাংসে first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

ডিমের দাম কমলেও বাড়তি সবজির দাম, স্বস্তি নেই মাছ ও মাংসে
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:০০  

আগের মতোই সরবরাহ কমার কারণে রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে কমেছে নিম্নবিত্ত মানুষের আমিষের জোগান দেওয়া ডিমের দাম। এছাড়া মাছ ও মুরগির বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি।

রাজধানীর শান্তিনগর ও বাসাবো বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ১০ টাকা কমে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক ডজনের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। আবার মাছের দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। কোনো কোনো মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি কেজিতে বেড়েছে। আবার কোনো মাছের দাম ১০-২০ টাকা কমেছে। সেখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির গত সপ্তাহের মতো আজ ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা রফিকুল হাসান বলেন, ‘গত সপ্তাহের মতো এই সপ্তাহেও ১৯০ টাকায় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছি। সোনালি মুরগির দাম ২১০ টাকা ছিল, আজকেও ২১০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে।’

ডিম ব্যবসায়ী দুলাল দাস বলেন, ‘ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে। আজকে ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা, আর ব্রাউন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। তবে আকারের ডিমের দাম এখনও ডজন প্রতি ১৬০ টাকা।’

বাজারের সবচেয়ে সস্তা মাছ পুকুরে চাষ করা মাছ পাঙ্গাস। এই মাছ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা ও তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ২৬০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।

মাছ বিক্রেতারা বলছেন, মাছের দাম সব সময়ই ওঠানামা করে। খুব সকালে এক দর ছিল। এখন একদর, বিকেলে আরেক দর। মাছ বেশি আসলে দাম কমে, কম আসলে দাম বাড়ে। ক্রেতা, সরবরাহ ও আবহাওয়ার উপরও দাম অনেক সময় নির্ধারণ হয়। সেখানে কাতলা মাছ ৪৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৭০০ টাকা কেজি আর শিং ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। আজকে মাছও আছে, ক্রেতাও আছে।

এদিকে ইলিশ মাছের দাম আগের মতোই বাড়তি। দুর্গাপূজার সময় ঘনিয়ে আসা এবং আগামী অক্টোবর মাসে মাছ আহরণ নিষেধের সময় এগিয়ে আসায় দাম বাড়তির দিকে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম বাজারে ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম মাছের দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম মাছের দাম কেজিতে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে ছোট আকারের ইলিশের দাম কেজিতে ৬০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ। বাজারে তুলনামূলক কম দামের পাঙ্গাস ও তেলাপিয়াও এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতি কেজি পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া কিনতে গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ২৫০ টাকা। ফলে বাড়তি দামের কারণে অনেক নিম্নবিত্ত পরিবার মাছের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ আবার নিয়মিত মাছ কেনাই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

শান্তিনগর রায়ের বাজারে মো. মাকসুদুন নবী নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে মাছ, মুরগি ও মাংসের দাম আগের অবস্থাতেই রয়েছে, বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে আমাদের মতো মধ্যবিত্তের মাছ পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি কমপক্ষে ২৩০ টাকা গুনতে হচ্ছে। মুরগি ও মাংসের দামেও উল্লেখযোগ্য কোনো কমতি নেই, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।’

সবজির বাজারে ফের অস্বস্তি

এই সপ্তাহেও রাজধানীর কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দামও।

বিক্রেতারা বলছেন, গত ১৫ দিনে সারাদেশে অতি বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে বাজারে। মূলত সরবরাহ ঘাটতির কারণেই মাল পাইকারি পাওয়া যায় না। বেশি দামে কেনায় তাদের বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, জাত ও মানভেদে বেগুন ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পটোল ও ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং লাউ প্রতিটি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া আলু ৩০ টাকা, লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও কিছুটা বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি হয়েছে।

রাজধানীর বাসাবো বাজারের সবজি বিক্রেতা বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় নতুন করে বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

ক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। গত সপ্তাহে যেসব সবজি তুলনামূলক কম দামে কেনা গেছে, সেগুলোই এখন বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

The post ডিমের দাম কমলেও বাড়তি সবজির দাম, স্বস্তি নেই মাছ ও মাংসে first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.