‘গণহত্যার বিচার ও রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আ.লীগের রাজনীতি নয়’

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ২০২৪ সালের গণহত্যার সঠিক তদন্ত, পূর্ণাঙ্গ বিচার ও রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখতে হবে। আদালত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবি ভবনে ডিপ্লোমা […] The post ‘গণহত্যার বিচার ও রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আ.লীগের রাজনীতি নয়’ first appeared on Sarabangla |

‘গণহত্যার বিচার ও রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আ.লীগের রাজনীতি নয়’
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:০০  

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ২০২৪ সালের গণহত্যার সঠিক তদন্ত, পূর্ণাঙ্গ বিচার ও রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখতে হবে। আদালত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবি ভবনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন্স অব বাংলাদেশের উদ্যোগে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, জেল খেটেছেন, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন তার প্রথম বিবেচনার বিষয় হবে। তাদের ত্যাগ কোনোদিন ভুলে যাওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যারা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে আতাত করে গোপনে নিজেদের সুযোগ-সুবিধার জন্য তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তারা বুঝে বা না বুঝে দেশের চরম ক্ষতি বা হুমকির মুখে ফেলছেন।’

ইশরাক বলেন, ‘যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল ২০২৪ সালে, সেই গণহত্যার বিচার এবং তার রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখতেই হবে।’ যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার পক্ষে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন, তাদের দেশের পক্ষে নাকি দেশের বিপক্ষে সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে একভাবে দেখার বিপক্ষেও অবস্থান তুলে ধরেন ইশরাক। তিনি বলেন, ‘একটি সংগঠন কোনো ব্যক্তি নয়। সংগঠন যারা পরিচালনা করেছে, দোষটা তাদেরই। আওয়ামী লীগে ভোট দিতেন বা নৌকায় ভোট দিতেন এমন অনেক মানুষ আছেন।’

তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত গণহত্যা যেটা সংঘটিত হয়েছে, সেটার সঠিক তদন্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ বিচার এবং রায় কার্যকর না হচ্ছে এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত না করা হচ্ছে যে এই সংগঠনটি চলতে পারে কি না, ততক্ষণ পর্যন্ত আসলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নাই।’

নিরীহ বা অপরাধী ব্যক্তিদের কোনোভাবেই অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হতে দেওয়া হবে না জানিয়ে ইশরাক বলেন, ‘এটার বিরুদ্ধেই তো আমরা লড়াই করেছি। তাহলে তাদের আর আমাদের মধ্যে কোনো তফাত থাকত না, পার্থক্য থাকত না।’

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ না করে ইশরাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কিন্তু আমি যেটা শেষের দিকে বলতাম, এটা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন ছিল না। এটা একটা মাফিয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছিল। রাজনীতির লেবাসে আবারও জনগণের মাঝে এসে দেশকে লুটপাট করার চিন্তাভাবনা বা পরিকল্পনা করার অধিকার তাদের রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন ক্রমাগত করে যেতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কে কী বলল, সেটা থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে, যেটা বাস্তবে ঘটনা ঘটেছে, একটা গণহত্যা ঘটেছে। যারা জুলাইয়ে শহিদ হয়েছেন, এই শহিদদের রক্তের সঙ্গে কি আমরা বেইমানি করতে পারি? বিগত ১৭ বছরে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের রক্তের সঙ্গেও বেইমানি করা যাবে না। তাদের পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নীতি-আদর্শের জায়গা থেকে সরে আসা যাবে না।’

আওয়ামী লীগ বা ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের চেষ্টার বিষয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘জেনে অথবা না জেনে লোভ-লালসা এবং অর্থের লোভে তারা সেই কাজটি করছে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।’

১৯৭১ সালের স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, ‘কালের পরিক্রমায় ৭১-এর যারা স্বাধীনতাবিরোধী, যারা গণহত্যাকারী ছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে, বাংলাদেশকেই চায়নি, তারা আজকে বিরোধীদলের আসনে আসীন হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলের ন্যূনতম সম্মান দেখানো হবে। তবে বাংলাদেশবিরোধী কোনো বক্তব্য যেমন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি বা তাদের ভূমিকা সঠিক ছিল এ ধরনের বক্তব্য মেনে নেওয়া হবে না।’

ইশরাক এ সময় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন্স অব বাংলাদেশের প্রতি শুভকামনা জানান। সারাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তির যারা এই সংগঠনে শ্রম ও পরিশ্রম দিয়েছেন, তাদের সুসংগঠিত ও মূল্যায়ন করে যথাযথ স্থানে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

The post ‘গণহত্যার বিচার ও রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আ.লীগের রাজনীতি নয়’ first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.