ঢাকা-টঙ্গী মহাসড়কে মোটরসাইকেলে অচেতন তরুণী বহনের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে পুলিশ
ফুটোজ ধরে সিসিটিভি ও প্রযুক্তি সহায়তায় উদ্ধার অভিযান
- মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে অচেতন তরুণীকে বহনের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা
- অনলাইন ফুটেজ ও মোটরসাইকেল নম্বর বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ
- ঘটনাটি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পেতে ৯৯৯ ও সাইবার ট্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে
অনলাইন মাধ্যম ও প্রযুক্তির সাহায্যে সংগৃহীত চিত্র বিশ্লেষণ করে মহাসড়কে রহস্যজনক এক ঘটনার অনুসন্ধানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা-টঙ্গী মহাসড়কে মধ্যরাতে একটি মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝে অচেতন অবস্থায় এক তরুণীকে বহনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। উক্ত ভিডিওতে তরুণীকে জীবিত নাকি মৃত অবস্থায় নেওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অনলাইন জুড়ে তোলপাড় তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ভিডিওর মোটরসাইকেল নম্বর এবং ডিজিটাল ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় শনাক্তে প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার ভোরে মাদরাসাতুল মাদীনা-বগুড়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি মনোয়ার হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, উমরার সফর শেষে বগুড়া ফেরার পথে নিজের গাড়ি থেকে দৃশ্যটি দেখেন এবং মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবিগুলো ধারণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি লেখেন, "এটা কি লাশ নিয়ে যাচ্ছে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ থাকলে বিষয়টি দ্রুত অ্যাকশন নেন। ৩টা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের দিকে আমি টঙ্গী পর্যন্ত সর্বশেষ দেখেছি। রাত তিনটা। উত্তরার আব্দুল্লাহপুর পার হয়ে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেল ফলো করলাম। একজন যুবক ড্রাইভ করছেন। মাঝখানে একজন তরুণী। তার পা খালি ছিল এবং নিচের দিকে ঝুলছিল।"
তিনি আরও জানান, "জাগ্রত বা জীবিত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা নয়। পেছন থেকে আরেকজন যুবক প্রাণান্তকর চেষ্টা করে তাকে জাপটে ধরে রেখেছেন। নয়তো তিনি নিশ্চিত পড়ে যেতেন। প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে দেখে আমার খুব সন্দেহ হলো। খুব কাছ থেকে ছবি তুললাম। দেখলাম, মেয়েটি হয় অজ্ঞান, অথবা মৃত দেখে এমনটাই মনে হয়েছে। ৯৯৯-এ কল দিলাম, কিন্তু যোগাযোগ করতে পারিনি। টঙ্গী পর্যন্ত এভাবেই আমরা দেখেছি। জানি না, প্রকৃত বিষয় সংক্রান্ত তথ্য কী। ছবিগুলো শেয়ার করে রাখলাম। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে এদের ক্লু পাওয়া যাবে।"
অনলাইন পোস্টের মন্তব্যের ঘরে রাকিব হোসেন নামে একজন ব্যক্তি দাবি করেন, ভোর ৩টার দিকে উত্তরা ফ্লাইওভারে তিনিও ওই তরুণদের দেখেছেন। প্রথম দেখায় তারও মনে হয়েছিল, কোনো মরদেহ হয়তো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব মন্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রযুক্তি ও অনলাইন ট্র্যাকিং সংক্রান্ত এ তদন্তের বিষয়ে গাজিপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট সূত্রকে জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর থেকেই গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া মোটরসাইকেলের নম্বর দেখে ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।
//ডিবিটেক/এসএমপি/ইএমএস/এমআইএসটি//





