কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রাইভেসি ফিল্টারে বেনামে ঘুষের তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি
ঘুষের তথ্য জানতে ক্রাউডসোর্সিং প্ল্যাটফর্ম ঘুষসাইট
- সরকারি সেবা পেতে ঘুষের অংক ও ধরন নথিবদ্ধে উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম চালু
- ব্যক্তিগত পরিচয় ও সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বয়ংক্রিয় মডারেশন প্রযুক্তি
- চার দিনে জমা পড়েছে ৪৯ কোটি টাকা দাবির অযাচাইকৃত ক্রাউডসোর্সড অভিযোগ
দেশব্যাপী সরকারি সেবা গ্রহণে অনানুষ্ঠানিক অর্থ দাবির ডেটা বেনামে সংগ্রহের (ক্রাউডসোর্সিং) লক্ষ্যে 'ঘুষসাইট' নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন দুই বাংলাদেশি তরুণ উদ্যোক্তা। ২১ আগস্ট, শুক্রবার www.ghush.site ঠিকানার এই ওয়েবসাইটটি উন্মুক্ত করা হয়। কোনো ব্যক্তি যেন অকারণ মানহানি বা ক্ষতির শিকার না হন, সেজন্য প্ল্যাটফর্মটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভাষা মডেল ও বিশেষ অ্যালগরিদম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
চালু হওয়ার পর থেকেই ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট তৈরি বা পরিচয় প্রকাশ ছাড়া সরকারি দফতরের নাম, সেবার ধরন, আনুমানিক অবস্থান, অর্থের পরিমাণ এবং ফলাফল শেয়ার করতে পারছেন। প্ল্যাটফর্মটিতে দুই দিনেই জমা পড়ে ৮০৪টি অভিযোগ। ঘাষ দাবি করা হয় মোট ১৩ কোটি ৬৫ লাখ। তৃতীয় দিনে ২ হাজার ৭০৯টি অভিযোগে নথিভুক্ত ঘুষ দাবির অংক বেড়ে দাড়ায় ৩৫.১৭ কোটি টাকা। চার দিনে মোট ৪৯ কোটি টাকার ঘুষ দাবির অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। এর আগে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগ থেকে প্রাথমিক ৪৫৮টি রিপোর্টে প্রায় ২.৪৫ কোটি টাকার ঘুষের দাবির তথ্য উঠে আসে। যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫৪টি অভিযোগ ছিল ঢাকা বিভাগ থেকে।
প্ল্যাটফর্মের কারিগরি দিক নিয়ে এর অন্যতম নির্মাতা সাইফ কবির বলেন, "বাংলাদেশের প্রত্যেকেই জানে যে ঘুষের অস্তিত্ব আছে। তবে যে তথ্যটি কারও কাছে নেই, তা হলো এর সুনির্দিষ্ট অংক বা হিসাব। তাড়াহুড়োর মধ্যে কাউন্টারে দাঁড়িয়ে একজন গ্রাহক হয়তো জানেন না চাওয়া টাকাটা স্বাভাবিক হার নাকি দ্বিগুণ। সেই তথ্যের ঘাটতি মেটাতেই এই উন্মুক্ত লেজার তৈরি করা হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারতের 'bribes.fyi' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সহ-নির্মাতা সাহেদ শরীফকে সাথে নিয়ে মাত্র একদিনে এর বাংলাদেশি সংস্করণটি তৈরি করা হয়।
ওয়েবসাইটের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ মূলত তিনটি ধাপে বিভক্ত। ব্যবহারকারীদের ইনপুট দেওয়ার পর একটি ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখাগুলো পরীক্ষা করে নাম, ফোন নম্বর, এনআইডি, ফাইল নম্বর বা শনাক্তকারী তথ্য এবং আপত্তিকর ভাষা বাদ দিয়ে দেয়। সাইফ কবির জানান, "প্রকাশিত তথ্য থেকে ব্যক্তিগত উপাত্ত সরাতে ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল কাজ করে। এটি একটি প্রাইভেসি ফিল্টার, সত্যতা যাচাইয়ের যন্ত্র নয়। কারও যাতে মানহানি না ঘটে সেজন্য দফতরের নাম লেখার সুযোগ থাকলেও ব্যক্তির নাম লেখার সুযোগ নেই। অটোমেটিক সেন্সর সিস্টেম ও পারমানেন্ট ফিল্টারিংয়ের কারণে আমাদের ডেটাবেজেও অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো তথ্য সংরক্ষিত থাকে না।"
নির্মাতারা জানান, এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য নির্দিষ্ট কারও অপকর্ম প্রমাণ করা বা কোনো কর্তৃপক্ষ হওয়া নয়; বরং দুর্নীতি ও অনিয়মের ধারাবাহিক ধরন বা 'প্যাটার্ন' উন্মোচন করা। সাইফ কবিরের ভাষ্যমতে, "একজন ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কের দাবি করলে তা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে, কিন্তু একই দফতরের ক্ষেত্রে একাধিক ব্যবহারকারী একই ধরনের তথ্য দিলে তা প্যাটার্নে রূপ নেয়।" এই সাইটের তথ্য গবেষক, সাংবাদিক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রাথমিক উৎস হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন এর নির্মাতারা।
//ডিবিটেক/ এনএপি/ এসএমই/ ইএমএস//





