বেইজিংয়ে মাত্র ৮.৮৬ সেকেন্ডে বিশ্বরেকর্ড গড়ল চীনা রোবট
১০০ মিটার দৌড়ে মানুষকে হারাল হিউম্যানয়েড রোবট
- বেইজিংয়ে ৮.৮৬ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়ে বোল্টের রেকর্ড ভাঙল হিউম্যানয়েড রোবট
- ১৬ দেশের ৬৬৬ দলের দুই সহস্রাধিক রোবট অংশ নিচ্ছে রোবট গেমসে
- উচ্চগতির পাশাপাশি ভারসাম্য রক্ষা ও নিরাপদ নিয়ন্ত্রণই আসল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ
১০০ মিটার স্প্রিন্টে মানুষের গড়া দ্রুততম সময়ের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে একটি হিউম্যানয়েড রোবট। মাত্র ৮.৮৬ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে চীনের তৈরি এই দুই পায়ে হাঁটা রোবটটি। চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকের আদলে পাঁচ দিনব্যাপী 'ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস'-এ এই অভাবনীয় প্রকৌশল সাফল্য প্রদর্শিত হয়।
২০০৯ সালে জ্যামাইকার উসেইন বোল্ট মানুষের পক্ষে ১০০ মিটারে ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। বেইজিং পৌর সরকার ও কয়েকটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ৫দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ২৬ আগস্ট রোবটটি সেই রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দেয়। এর আগে প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে একটি রোবট ৯.৩২ সেকেন্ড এবং তিন দিন আগে অন্য একটি রোবট ৯.৩৯ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, যা গত বছরের ২১.৫০ সেকেন্ডের রেকর্ডকে আগেই ছাড়িয়ে যায়। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে ৮.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে সব রেকর্ড ভেঙে দেয় চীনের রোবটটি।
দৌড় শেষ করার পর রোবটটি একটি নরম প্রতিরোধকে (ব্যারিয়ার) ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায় এবং এর কোমরের অংশ থেকে স্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায়। রোবটবিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত গতি অর্জন করার চেয়ে দৌড় শেষে নিরাপদে থামা এবং ভারসাম্য রক্ষা করা অনেক বড় পরীক্ষা।
এ প্রসঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (UCLA)-র অধ্যাপক ডেনিস হং জানান, "একটি বাইপেডাল বা দু’পায়ে হাঁটা রোবটকে এত দ্রুত দৌড় করানো অত্যন্ত কঠিন ও জটিল প্রকৌশল কাজ। কারণ গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারসাম্য রাখা, শরীরের মেকানিক্যাল ধাক্কা সামলানো এবং অ্যালগরিদম দিয়ে চলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ওপর মোটরের শক্তি ও ব্যাটারির সক্ষমতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।"
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১০০ মিটারে দ্রুত দৌড়ানো বড় সাফল্য হলেও বাস্তব জীবনে রোবটের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতাই মূল বিচার্য। বাসা-বাড়ির কাজ, হোটেলে সেবা প্রদান বা জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলায় হিউম্যানয়েড রোবট কতটা কার্যকর ও নিরাপদভাবে মানুষের পাশে কাজ করতে পারবে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য।
জাপানসহ ১৬টি দেশের ৬৬৬টি দলের তৈরি ২ হাজারেরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট ১,৩০০-র বেশি ইভেন্টে অংশ নিয়ে লং জাম্প, টেবিল টেনিস ও ফুটবলের মতো খেলায় তাদের প্রকৌশলগত দক্ষতা দেখাচ্ছে। চীন সরকার রোবটিক্স শিল্পকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে গ্রহণ করায় প্রযুক্তি খাতে এই দ্রুত রূপান্তর ঘটছে।
//ডিবিটেক/ এনএইচকে/এমআইএস//





