সড়ক দুর্ঘটনায় প্রকৃত চিত্র জানতে সেন্ট্রাল ডাটাবেজের দাবি তরুণদের
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজ’ প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বিশাল ব্যবধান থাকায় সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক চিত্র নিরূপণ ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন যুব সংগঠনের পক্ষ থেকে ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।
দাবি জানানো প্রতিনিধি ও সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছেন—আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সদস্য মো. ইস্তিয়াক ইমন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সদস্য মো. ইফরাত হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়কারী মো. আরমান হোসাইন রায়েদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটির সদস্য নওশীন নাওয়ার আচল। এছাড়া এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটি, লাল সবুজ সোসাইটি, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, আমরাই আগামী, ক্লাইমেট কানেক্টস ও বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিসংখ্যানের ব্যবধান তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৪৯০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন। একই বছরে অন্য একটি হিসাবে ৭ হাজার ৫৮৪টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৫৯ জন নিহত ও ১৬ হাজার ৪৭৬ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি ২০২৪ সালেও বিআরটিএ, যাত্রী কল্যাণ সমিতি এবং রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যানে অনুরূপ বড় ফারাক দেখা গিয়েছিল।
এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০২৩ অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশীয় সরকারি হিসাবের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই ব্যবধান দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে।
যুব সংগঠনগুলোর মতে, একটি সমন্বিত সেন্ট্রাল ডাটাবেজে দুর্ঘটনার স্থান, সময়, ধরন, যানবাহন, সড়কের অবস্থা এবং নিহত ও আহতের তথ্য সংরক্ষিত থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও দুর্ঘটনার আসল কারণ শনাক্ত করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে।
এই লক্ষ্য অর্জনে বিআরটিএ, পুলিশ, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার তথ্য সমন্বয়, দুর্ঘটনা নথিভুক্তকরণে অভিন্ন মানদণ্ড প্রণয়ন, হতাহত ব্যক্তিদের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষিত রেখে নিয়মিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছেন তরুণ প্রতিনিধিরা।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে একটি জবাবদিহিমূলক ও প্রমাণভিত্তিক সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
//ডিবিটেক/ডিএমএনপিআর/এসএমই/এফওইডি//





