শিক্ষার্থীদের পারমাণবিক বিজ্ঞান বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে মিউজুবাস প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিজ্ঞান শিক্ষা কর্মসূচি

  • রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঈশ্বরদীতে দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান শিক্ষা কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের 'মিউজুবাস' ব্যবহার করে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইন্টার‌্যাকটিভ প্রদর্শনী ও কুইজ পরিচালনা করা হয়।
  • ভুল ধারণা দূর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্

ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিজ্ঞান শিক্ষা কর্মসূচি
১৪ আগষ্ট, ২০২৬ ১৬:১৮  

ঈশ্বরদী (পাবনা): ১৪ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আওতায় ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'পারমাণবিক বিজ্ঞান শিক্ষা বিষয়ক কর্মসূচি এবং ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান জাদুঘর প্রদর্শনী' অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সহযোগিতায় ১৩ ও ১৪ আগস্ট ২০২৬, বুধ ও বৃহস্পতিবার এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এ কর্মসূচিতে ইক্ষু গবেষণা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং জামিয়াতুল কুরআনুল কারীম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান জাদুঘর 'মিউজুবাস'-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে নানা ধরনের ইন্টার‌্যাকটিভ বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রতিনিধিরা পারমাণবিক শক্তি, বিকিরণ, পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যভিত্তিক আলোচনা করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বৈজ্ঞানিক তথ্য বিভাগের পরিচালক ড. আনন্দ কুমার দাস বলেন, "শিক্ষার্থীদেরকে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করা এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে আমাদের এই আয়োজন। মিউজুবাসের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, প্রশ্নোত্তর পর্ব ইত্যাদির মতো ইন্টার‌্যাকটিভ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজ ও আনন্দদায়কভাবে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।"

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট (গণমাধ্যম) ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ বলেন, "শিক্ষাজীবনের শুরুতে শিক্ষার্থীদের কাছে সঠিক ও তথ্যভিত্তিক ধারণা পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মিউজুবাসের মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার পাশাপাশি পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি করছে। এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করতে সহায়ক হবে।"

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আছমা বেগম, ঊর্ধ্বতন গ্রন্থাগারিক মারুফ হোসেন এবং প্রকল্পের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইকবাল হাসানী উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের পক্ষে প্রধান ডিসপ্লে কর্মকর্তা সৈকত সরকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে।
//ডিবিটেক/এসএ/এমআইএস//