• বাংলাদেশে স্থানীয় অবকাঠামো স্থাপনে মেটার আগ্রহ
  • ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্তে এআই ব্যবহারের আহ্বান
  • স্থানীয় পেমেন্ট ও সিডিএন স্থাপনের অনুরোধ

মেটার স্থানীয় অবকাঠামো চায় বিটিআরসি

মেটার স্থানীয় অবকাঠামো চায় বিটিআরসি
১৩ আগষ্ট, ২০২৬ ১৫:৩৫  

বাংলাদেশে মেটার কার্যক্রম সম্প্রসারণ, স্থানীয় অবকাঠামো স্থাপন এবং ব্যবহারকারীদের দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে মেটার প্রতিনিধি দলের বৈঠকে। বিশেষ করে স্থানীয় কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (সিডিএন)/এজ নোড স্থাপন, স্থানীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: এমদাদ উল বারী (অব.)-এর দপ্তরে মেটার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে মেটার দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়ার পাবলিক পলিসির পরিচালক Yuen Ting Chay, বাংলাদেশ ও নেপালের পাবলিক পলিসি প্রধান Ruzan Sarwar এবং মেটার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের লিড এজ স্ট্রাটেজি Matt Jansen উপস্থিত ছিলেন।

মেটার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং বিটিআরসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করে।

বিটিআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মেটার বিভিন্ন সেবা ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। তাই বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং স্থানীয় অফিস স্থাপনের জন্য মেটা কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশে স্থানীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা মেটার প্রতিনিধিদের জানানো হয়।

বাংলাদেশে মেটার প্ল্যাটফর্মের বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর কথা বিবেচনায় নিয়ে দেশে স্থানীয় কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (CDN)/এজ নোড স্থাপনের অনুরোধও জানায় বিটিআরসি। এর ফলে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা আরও উন্নত সেবার মান (QoS), দ্রুততর এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

মেটার প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশের আগের ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশের কয়েকটি বিধান স্থানীয়ভাবে CDN/এজ নোড স্থাপনের ক্ষেত্রে কিছু দাপ্তরিক ও আইনগত সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছিল। তবে বর্তমান সরকারের অনুমোদিত নতুন ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এ এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা না থাকায় বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় স্থানীয় অবকাঠামো স্থাপনে তারা আরও উদ্যোগী ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করবেন।

এ সময় বাংলাদেশে ফেসবুকের কার্যক্রম ও বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়েও বিটিআরসি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন মেটার প্রতিনিধিরা।

মেটার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যাতে অপরাধীরা প্রতারণামূলক কার্যক্রম, বেটিং বা জুয়ার প্রচারণা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

এ লক্ষ্যে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও অপসারণের জন্য কার্যকর কারিগরি ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধে মেটার কার্যকর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জবাবে মেটার প্রতিনিধি জানান, বিশ্বব্যাপী কর্মীসংখ্যা পুনর্গঠন ও জনবল কমানোর কারণে তাদের কিছু কার্যক্রমে সাময়িক ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশ্বস্ত করেন।

মেটার পাবলিক পলিসির প্রধান Ruzan Sarwar বিটিআরসি চেয়ারম্যানের মতামতকে স্বাগত জানিয়ে কমিশনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে অবকাঠামো ও অফিস স্থাপনের বিষয়ে কারিগরি ও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাতে বিটিআরসির ভাইস-চেয়ারম্যান মো: আবু বকর ছিদ্দিক, সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ এবং সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম তাইফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/এমএবি/এসএমই//