এনভিডিয়াকে টপকে আবারও বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানি অ্যাপল

এনভিডিয়াকে টপকে আবারও বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানি অ্যাপল
১৭ জুলাই, ২০২৬ ২১:৩০  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ফলে বিশ্ব প্রযুক্তিবাজারের শীর্ষস্থানে বড় ধরণের রদবদল ঘটেছে। চিপ নির্মাতা জায়ান্ট এনভিডিয়াকে পেছনে ফেলে আবারও বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেছে অ্যাপল। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাজার মূলধনের এই শীর্ষস্থান পরিবর্তন প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘদিনের সমীকরণ বদলে দিল।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বাজারে অ্যাপলের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪.৮৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম ৩.৫ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বাজার মূল্য নেমে এসেছে ৪.৮৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর শীর্ষস্থান হারাল এনভিডিয়া। ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম অ্যাপল আবারও বিশ্বের এক নম্বর দামী কোম্পানির স্থানটি নিজেদের দখলে নিল।

বিনিয়োগকারীদের এই নতুন অবস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে, তারা এখন এআই বিপ্লবের সরাসরি সুফলভোগী (যেমন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া) ছাড়াও অন্যান্য খাতের দিকে মনোযোগ বাড়াচ্ছেন। 

বিআরআই ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের বিনিয়োগ প্রধান টনি মেডোস বলেন, "শুরুর দিকে এআই রেসে অ্যাপলকে কিছুটা পিছিয়ে পড়া মনে হচ্ছিল, কারণ তারা নিজস্ব বড় এআই মডেল তৈরির পেছনে বিপুল অর্থ খরচ করছিল না। তবে এখন বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলেছে। অ্যাপলকে এআই-এর জন্য অতিরিক্ত ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বা অবকাঠামোগত খরচ করতে হচ্ছে না; বরং তারা তাদের শক্তিশালী ইকোসিস্টেম, প্রিমিয়াম হার্ডওয়্যার আপগ্রেড এবং বিভিন্ন সার্ভিসের মাধ্যমে এআই-কে সরাসরি আয়ের উৎসে রূপান্তর করতে অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।"

চলতি বছরের এই নতুন মাইলফলকটি অ্যাপলের বর্তমান সিইও টিম কুকের বিদায়ী সময়কালকে অত্যন্ত গৌরবময় করে তুলবে। উল্লেখ্য, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই টিম কুক অ্যাপলের দীর্ঘদিনের হার্ডওয়্যার প্রধান জন টার্নার্সের কাছে নিজের সিইও পদ হস্তান্তর করতে যাচ্ছেন। গত মাসেই অ্যাপল তাদের বহুল প্রতীক্ষিত এবং নতুনভাবে ঢেলে সাজানো ‘সিরি’ ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট উন্মোচন করেছে, যা অন্যান্য বিগ-টেক রাইভালদের সাথে তাদের এআই রেসের ব্যবধান ঘুচিয়ে দিয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি আইফোনে থাকা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটা অ্যাপলের জন্য একটি এআই খনি; যা সিরিকে আরও বেশি বুদ্ধিমান ও কার্যকর করে তুলবে, তবে প্রাইভেসি বা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা করে কীভাবে এই ডেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যাবে—সেটিই হবে অ্যাপলের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ।

অবশ্য এনভিডিয়ার এই সিংহাসনচ্যুতি স্থায়ী কোনো পরিবর্তন নাও হতে পারে। গত বছরের অক্টোবরে বিশ্বের প্রথম কোম্পানি হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার মূলধন স্পর্শ করার গৌরব অর্জন করেছিল এনভিডিয়া। জেনারেটিভ এআই-এর এই জোয়ারে তাদের তৈরি গ্রাফিক্স প্রসেসর বা জিপিইউ এখনো বাজারের মূল চালিকাশক্তি, ফলে বিনিয়োগকারীদের মানসিকতা সামান্য পরিবর্তন হলেই এনভিডিয়া যেকোনো সময় আবার শীর্ষস্থান ফিরে পেতে পারে। তা ছাড়া আইফোনের যন্ত্রাংশের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে অ্যাপল সম্প্রতি ফোনের দাম বাড়িয়েছে, যা তাদের ডিভাইসের বৈশ্বিক চাহিদায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এআই-কে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের এই তুমুল উৎসাহ এখন সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পের অন্যান্য শাখাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। চলতি ২০২৬ সালে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে মেমোরি চিপ নির্মাতারা। এআই অবকাঠামোতে মেমোরি চিপের অপরিহার্যতার কারণে গত মে মাসেই মার্কিন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘মাইক্রোন’ ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজার মূলধনের গণ্ডি পার করেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক ‘এসকে হাইনিক্স’ চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন শেয়ারবাজার নাসডাকে তালিকাভুক্ত হয়ে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

চলতি জুলাই মাসে এসে এআই চিপের বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় সামগ্রিক ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইনডেক্স তার সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড থেকে প্রায় ১৯ শতাংশ নিচে নেমে গেছে। তবে এই বড় পতনের পরও সামগ্রিক ইনডেক্সটি চলতি বছরে এককভাবে এনভিডিয়ার শেয়ারের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: রয়টার্স