প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার তাগিদ

প্রযুক্তিহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার: রিজভী

  • কারিগরি শিক্ষার প্রসার ছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য বিএনপির রুহুল কবির রিজভীর
  • প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর থেকে কারিগরি শিক্ষা জোরদারের পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান
  • ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পুরোনো স্লোগান উল্লেখ করে রাজনীতিতে প্রযুক্তিগত ধারণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর

প্রযুক্তিহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার: রিজভী
১ আগষ্ট, ২০২৬ ১৬:১২  

কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পুরোনো স্লোগান উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, "প্রযুক্তিহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার। একজন রাজনীতিবিদকে প্রকৌশলী হতে হবে এমন নয়, তবে কারিগরি বিদ্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট ধারণা ও আগ্রহ থাকা আবশ্যক।"

আজ শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা কাঠামোর ঘাটতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, "বর্তমানে দেশে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে মাত্র ১৬৪টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, অথচ উপজেলা রয়েছে প্রায় ৪৫০টি। দেশের প্রতিটি উপজেলা এবং প্রধান বাণিজ্যিক গঞ্জ-বাজারে অন্তত একটি করে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকা উচিত।"

পারিবারিক বা অর্থনৈতিক কারণে যেসকল শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ঝরে পড়ে, তাদের কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর থেকেই ব্যবহারিক কারিগরি জ্ঞান যুক্ত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, একজন তরুণ ইলেকট্রিশিয়ান বা মেকানিক হিসেবে দক্ষ হলে সে অনায়াসে নিজের কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ তৈরি করতে পারে।

কারিগরি শিক্ষাকে খাটো করে দেখার সামাজিক মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, "সবাইকে শুধু ব্যারিস্টার, ডাক্তার বা এমবিএ হতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। যোগ্যতানুযায়ী কারিগরি শিক্ষা নিয়েও অনেক দূর যাওয়া সম্ভব।" এ প্রসঙ্গে তিনি বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা ও লেখক কাদের খানের জীবনসংগ্রামের উদাহরণ দেন, যিনি কঠিন পরিস্থিতিতে ডিপ্লোমা পাস করার পর বিএসসি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও পোস্টগ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছিলেন।

চীনের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত রূপান্তরের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সাল থেকে চীন কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারলে প্রবাসী আয় যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি কর্মীরাও উন্নত সুবিধা পাবে। একই সাথে শিল্পখাতের সাথে প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানদের কার্যকর সংযোগ ঘটানোর বিষয়ে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আহসানুল হাবিব খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, আইডিইবির অন্তর্বর্তী কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. কবীর হোসেন এবং সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার কাজী সাখাওয়াত হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. ফয়েজুল বারী। 
//ডিবিটেক/এটিএন/ বিএনও//