নিয়োগ ও মজুরির দাবিতে এআই টেকনিশিয়ানদের আলটিমেটাম; ৯ মাসের বকেয়া ভাতা ছাড়াই চলছে জীবন-জীবিকা

১ জুলাই থেকে গবাদিপশুর সরকারি কৃত্রিম প্রজনন সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ!

নিয়োগ ও সুনির্দিষ্ট মজুরি নির্ধারণের দাবিতে আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) থেকে সারাদেশে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নসংক্রান্ত সরকারি কৃত্রিম প্রজনন সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন এআই টেকনিশিয়ানরা (এআইটি)। মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতি’ এই চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দেয়।

১ জুলাই থেকে গবাদিপশুর সরকারি কৃত্রিম প্রজনন সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ!
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:৫৪  

নিয়োগ ও নিয়মিত বেতনের দাবিতে আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) থেকে সারাদেশে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নসংক্রান্ত সরকারি কৃত্রিম প্রজনন সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এআই টেকনিশিয়ানরা (এআইটি)।

৩০ জুন, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতি’র ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আজাদ হোসেন বলেন, "সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নসংক্রান্ত সরকারি খাতে কৃত্রিম প্রজনন সেবায় কর্মরত ৫ হাজার ২৭২ জনের আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতীতের আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুত বিষয়টি আইনি জটিলতায় আটকে গেছে। ফলে চূড়ান্ত আন্দোলন কর্মসূচি হিসেবে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাওয়া ব্যতীত ভিন্ন কোনো পথ আমাদের সামনে খোলা নেই। যেকোনো উপায়ে বা পদ্ধতিতে আমাদের একটি মজুরি নির্ধারণ এবং তার বাস্তবায়ন দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত আমরা সরকারি কাজে ফিরে আসব না।"

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, "আমাদের আউটসোর্সিং, রাজস্ব হোক অথবা দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগ চাই। আমরা মূলত আমাদের শ্রমের ন্যায্য মজুরি চাই। মজুরি দিলে আমরা দ্রুত কাজে ফিরে যাব।"

নেতৃবৃন্দ দেশের দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদনে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আজ একটি গাভী ২০ থেকে ৩০ লিটার পর্যন্ত দুধ দিচ্ছে এবং দেশ মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর সিংহভাগ কৃতিত্বের দাবিদার এআই টেকনিশিয়ানরা, যারা ইউনিয়ন পর্যায়ে বছরের পর বছর বিনা বেতনে এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে ২০১৬ সালে ৫০০ টাকা এবং ২০১৯ সালে ২০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হলেও, ২০২৪ সালের জুনে ৯ মাসের বকেয়া রেখে তাও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৩ থেকে ৩০ বছর ধরে বিনা বেতনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর তথা দেশের সেবা করে আজ এই টেকনিশিয়ানদের জীবন-জীবিকা বিপন্ন।

সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১ জুলাই থেকে এই সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. মাসুদ করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

//ডিবিটেক/ডিএমআই/ডিএইচই//