সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে অনলাইন জুয়ার ধারা বাতিলের প্রস্তাব সংসদে

একই অপরাধে দ্বৈত আইন প্রয়োগের জটিলতা এড়াতে সংশোধনী বিল; তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে সংসদীয় কমিটি

সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে অনলাইন জুয়ার ধারা বাতিলের প্রস্তাব সংসদে
২৭ জুন, ২০২৬ ২২:৪৫  

জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ সংশোধনের লক্ষ্যে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা, বেটিং পরিচালনা এবং এ-সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ডবিধির ধারাটি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

২৭ জুন, শনিবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাইবার সুরক্ষা সংশোধন বিলটি উত্থাপন করেন। এসময় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বিল উত্থাপনের সময় আগে বিলে কী ছিলো এবং এখন কী করা হচ্ছে তা তুল ধরতে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

কার্যদিবসের শেষ ভাগে বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন স্পিকার। এ পর্যায়ে মন্ত্রী কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সংসদে জমা দেওয়ার আবেদন করলে সদস্যদের হ্যা ভোটে বিলটি স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো হয়। 

সংসদে উপস্থাপিত বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসকে নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং অপরাধমুক্ত রাখতে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই আইনের ২০ নম্বর ধারায় অনলাইন জুয়া, বেটিং কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে একই অপরাধে একাধিক আইনের আওতায় বিচারিক জটিলতা ও আইনগত দ্বৈততা এড়ানোর লক্ষ্যে সংশোধনী আনা হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অনলাইন ও অফলাইন উভয় ধরনের জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও দমনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ নামে পৃথক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

সংসদীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একই ধরনের অপরাধে দুটি পৃথক আইনে শাস্তির বিধান থাকলে বিচারিক প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে অনলাইন জুয়াকেও নতুন আইনের আওতায় আনা হলে সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে সংশ্লিষ্ট ধারা প্রত্যাহারের যৌক্তিকতা তৈরি হয়েছে।

সংশোধনী কার্যকর হলে সাইবার সুরক্ষা আইন মূলত হ্যাকিং, তথ্য চুরি, ডিজিটাল প্রতারণা, সাইবার হামলা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আরও বেশি লক্ষ্যভিত্তিকভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

//ডিবিটেক/ডিএম/ইকে//