স্টার্টআপে ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ, তহবিল বাড়িয়ে ১ হাজার কোটি করার পরিকল্পনা: মন্ত্রী

জাতীয় সংসদে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৩৬টি স্টার্টআপে ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং তহবিলের আকার ভবিষ্যতে ১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশে বৈধ নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ এবং ৪০০টির বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু রয়েছে।

স্টার্টআপে ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ, তহবিল বাড়িয়ে ১ হাজার কোটি করার পরিকল্পনা: মন্ত্রী
৯ জুন, ২০২৬ ১৮:৩৮  
৯ জুন, ২০২৬ ২২:০৩  

প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী ব্যবসা সম্প্রসারণে স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ তহবিলের আকার ধাপে ধাপে ১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে চারটি মোবাইল অপারেটরের বৈধ নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ এবং ৪০০টিরও বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু রয়েছে। দেশজুড়ে নতুন করে আরও এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে।

৯ জুন, মঙ্গলবার  স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী।

নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ এ পর্যন্ত ৫৫টি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। তবে আইনি ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।

বিনিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চালডাল লিমিটেড, টেন মিনিট স্কুল লিমিটেড, সেবা প্ল্যাটফর্ম লিমিটেড এবং ট্যুর বুকিং বাংলাদেশ লিমিটেডের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, এসব স্টার্টআপে ৭ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় রাজস্ব বা বিক্রি পাঁচ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান ১৮০ কোটিরও বেশি টাকা কর পরিশোধ করেছে, যা স্টার্টআপ বাংলাদেশের মোট বিনিয়োগের প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ।

তিনি আরও বলেন, পোর্টফোলিওভুক্ত স্টার্টআপগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণেও উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে।

স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে বা সুদবিহীন ঋণ সুবিধার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী স্টার্টআপ বাংলাদেশ সরাসরি ঋণ প্রদান করতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটি মূলত সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপে ইক্যুইটি এবং ইক্যুইটি-লিংকড ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে থাকে। তবে অর্থায়ন ঘাটতি পূরণে সরকার বিশেষায়িত ও ম্যান্ডেটেড ফান্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ফোরজি প্রযুক্তি চালু রয়েছে এবং ফাইভজির বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, রাজধানীর বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা মিলিয়ে ঢাকায় প্রায় ৪০টি স্থানে এবং ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটসহ বিভাগীয় পর্যায়ে ৪০০টির বেশি স্থানে সীমিত আকারে ফাইভজি সেবা চালু রয়েছে। তবে দেশব্যাপী পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ফাইভজি চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর—টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা এবং বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস—সেবা প্রদান করছে। এসব অপারেটরের বৈধ নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে মোট ৯ হাজার ৮৪৮টি ডাকঘর রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও), ২৩টি এ-গ্রেড ডাকঘর, ৪৫টি বি-গ্রেড প্রধান ডাকঘর, ৪০৮টি উপজেলা ডাকঘর, ৯৩০টি সাব-পোস্ট অফিস, ১০টি শাখা পোস্ট অফিস, ৩১৯টি ইডিএসও এবং ৮ হাজার ১০৯টি ইডিবিও।

এছাড়াও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যেই নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে নতুন করে এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের জন্য ডিপিপি সংশোধনের কার্যক্রম এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

//ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম//