শজনের নামে লাজনায় সয়লাব বাজার

শজনের নামে লাজনায় সয়লাব বাজার
৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:০১  

আবহমান কাল থেকেই বসন্তের ঔষধি সবজি হিসেবে সমধিক পরিচিত শজনে। হাম-বসন্তের প্রতিষেধক হিসেবে এর জুড়ি নেই।

ফলে বাজার চাহিদা মেটাতে এরই মধ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে শজনের হাইব্রিড সংস্করণ লাজনা। খোলা চোখে, দেখতে একই রকম হওয়ায় লাজনাকে অনেকেই শজনে ভেবে কিনছেন। তবে অনেকটা একরকম হলেও এদের গঠন, ফুল, ফলন, গাছের আকার ও চাষপদ্ধতিতে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সরু আকারে শজনে বছরে একবার হলেও বামন আকারের লাজনা বারোমাসি ফলন হয়।

এ বিষয়ে উদ্ভিদবিদ ও গবেষক জিনিয়া নাসরিন বলেন, শজনেকে যেমন কোথাও শজিনা বা মরিঙ্গা নামে ডাকা হয়, তেমনি লাজনাকে অঞ্চলভেদে রাইখঞ্জন বা বহুপল্লভা বলেও চেনেন কেউ কেউ। তবে দেখতে প্রায় একই রকম হলেও এদের পার্থক্য আছে। 

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) সূত্রে প্রকাশ, উভয় গাছের উচ্চতা ও গঠনগত দিক থেকে প্রথম পার্থক্যটি স্পষ্ট। দেশি শজনে গাছ সোজা ও লম্বা হয়, যা প্রায় ১০-১২ মিটার বা তারও বেশি উঁচু হতে পারে। এর ডালপালা ওপরের দিকে বিস্তৃত থাকে। অন্যদিকে লাজনা মূলত একটি ঝোপালো বা বামন প্রজাতির গাছ, যার উচ্চতা সাধারণত ৪-৬ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে লাজনার রক্ষণাবেক্ষণ এবং ফল সংগ্রহ করা অনেক সহজ।এদের কাণ্ড ও ডালপালার বৈশিষ্ট্যও আলাদা। শজনের কাণ্ড শক্ত, বাকল বা ছাল কিছুটা মসৃণ ও পাতলা হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এটি বেশ মজবুত কাষ্ঠলগাছে পরিণত হয়।

সূত্র বলছে, শজনের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে দিলেই নতুন গাছ জন্মে। লাজনার কাণ্ড কিছুটা নরম ও মোটা হয়। এটি খুব দ্রুত বাড়ে কিন্তু সাধারণত শজনের মতো অতটা শক্তপোক্ত হয় না। শজনের মতো লাজনাগাছও ডাল থেকে চারা করা যায়, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বীজ থেকে চাষ করা হয় লাজনা। ফুল ও ফলনের সময়েও এদের মধ্যে তফাৎ রয়েছে। শজনে মৌসুমি ফলনের গাছ। বছরে একবার, বসন্তের শেষ দিকে ফুল আসে এবং একবারই ফল বা ডাঁটা দেয়। ফুলের রং সাদাটে বা অফ হোয়াইট। গাছে ফুল আসার সময় সব পাতা ঝরে যায়, আর ফুল থেকে ফল হয়েও তা পাতাশূন্য গাছেই ঝুলতে থাকে। লাজনা অবশ্য বারোমাসি জাত হিসেবে পরিচিত। এটি বছরে কমপক্ষে দুইবার, ক্ষেত্রবিশেষে সারা বছর ফুল ও ফল দেয়। লাজনাগাছের ফুল আকারে ছোট, রং গাঢ় ঘিয়ে এবং ফুলের পাপড়িতে লাল রঙের দাগ দেখা যায়, যা শজনের ফুলে থাকে না। এ ছাড়া লাজনায় ফুল এলেও গাছের পাতা ঝরে না বললেই চলে, সারা বছরই পাতার দেখা মেলে।

কৃষিবিদরা জানান, লাজনা রোপণের মাত্র ৬-৮ মাসের মধ্যেই এতে ফলন আসতে শুরু করে, যেখানে শজনে গাছ রোপণের পর ফলন পেতে প্রায় ২ বছর সময় লাগে। ফলে বাজারে সয়লাব শজনের দেখা যাচ্ছে তার অধিকাংশই আসলে  লাজনা।

পরখ করলে বোঝা যায়, শজনের ডাঁটা কিছুটা চিকন, পাতলা এবং লম্বায় এক ফুটেরও বেশি হয়। এটি অনেক বেশি আঁশযুক্ত ও সুস্বাদু। ডাঁটা শুরু থেকে পোক্ত হওয়া পর্যন্ত একদম সবুজ সতেজ থাকে এবং সোজা গড়নের হয়।  বিপরীতে লাজনার ডাঁটা খাটো ও মাংসল হয়। অনেকের মতে, শজনের তুলনায় লাজনা কিছুটা কম সুস্বাদু, কখনো কখনো তেতো স্বাদ পাওয়া যায়। ডাঁটার রং কিছুটা ধূসর-সবুজ, তুলনামূলক মোটা আর হালকা বাঁকা গড়নের। ভেতরের অংশ নরম হলেও বাইরের চামড়া বেশ শক্ত।

তবে উভয় সবজিরই ঔষধি গুণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বসন্তের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত রাখতে শজনে ও লাজনা উভয়ই কার্যকর।

ডিবিটেক/এসআই/এমইউআইএম