নেটিজনেদের কাঁদাচ্ছে পদ্মার পাড়ের কান্না-আহাজারি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের স্বজনরা পদ্মা পাড়ে ভিড় জমিয়ে অপেক্ষা করছেন, তাদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেই কান্না-আহাজারি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনি মিডিয়ার লাইভ, ফেসবুক রিল আর ইউটিউব সম্প্রচার কাঁদাচ্ছে নেটিজেনদের।
২৫ মার্চ, বুধবার রাত ১১টা থেকে ডুবে যাওয়া বাসটি আস্তে আস্তে টেনে তেলার ভিডিও সম্প্রচারে রূদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি ফুটে উঠে ইমোজিতে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত দেখা যায়, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে বাসটির সামনের অর্ধেক অংশ ইতোমধ্যে উপরে তোলা হয়েছে। বাসটি টেনে তোলা হচ্ছে।
‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ যাত্রীবাহী বাসের দরজা ভেঙে গেছে। বাসের ভেতর থেকে স্কুল ব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগ ও অন্যান্য ব্যাগ ভেসে উঠতে দেখা গেছে। তিনটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে।
এর আগে রাত ১০টার দিকে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানিয়েছিলেন, নদীর প্রায় ৯০ ফিট গভীরে তলিয়ে যাওয়া বাসটিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সাহায্যে টেনে প্রায় ৫০ ফিট ওপরে তোলা হয়েছে।
সোহেল রানা বলেন, তলিয়ে যাওয়া বাসটি নদীর ৮০-৯০ ফিট গভীরে ছিল। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে বাসটি প্রায় ৫০ ফিট ওপরে তোলা হয়েছে। আরও ৩০-৪০ ফিট ওপরে বাসটি তুলতে হবে। খুব ধীরগতিতে সতর্কতার সাথে বাসটি টেনে তোলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাসের জানালা ও দরজা বন্ধ থাকার কারণে আমাদের ডুবুরি ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। এজন্য পুরো গাড়িটাই টেনে তুলতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাস ডুবে যাওয়ার সময় তিনজনের নিথর দেহ ভেসে ওঠে। এর মধ্যে দুজন নারী মারা গিয়েছেন। একজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আনুমানিক ৩৫-৪০ জন যাত্রী বাসের মধ্যে ছিলো।
নিহতরা হলেন- রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর লাল মিয়া সড়কের মৃত ইসমাইল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬০) ও রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাংশা জোনাল অফিসের বিলিং সুপারভাইজার মর্জিনা বেগম (৫৬)। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ঘটনাস্থলে আসলেও বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান ধীরগতি হচ্ছে।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ৩৩ জনের মতো যাত্রীর মরদেহ পানির নিচে রয়েছে। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুজন ডুবুরি, দুজন সহকারী ডুবুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।
ডিবিটেক/এসএম/ইকে





