রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গবেষণায় নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের তিন বিজ্ঞানী
২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর, সোমবার প্রথমেই ঘোষণা করা হলো চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জয়ীদের নাম। দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কেমন করে নিজের অঙ্গপ্রতঙ্গের ক্ষতি না করে জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেয়, সেই কৌশল উদঘাটনের স্বীকৃতি হিসেবে এবারে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল এবং শিমন সাগাগুচি।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে এই তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করে সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেমব্লি। নোবেল জয়ী মেরি ই ব্রুনকো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজির গবেষক, ফ্রেড র্যামসডেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর সোনোমা বায়োথেরাপিউটিক্সের গবেষক এবং শিমন সাকাগুচি জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক।
নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বাবদ ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে নেবেন তারা।
‘পরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য দেয়া এই পুরস্কার বিষয়ে দ্য নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, মানবদেহে শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত থাকতে হয়। তা না হলে এটি অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে পারে। মেরি ই. ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল ও শিমন সাকাগুচি এ ক্ষেত্রে যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন। এটি রোগ-প্রতিরোধ বা ইমিউন সিস্টেমের একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শরীরের নিজস্ব উপাদান (self-antigens) এবং ক্ষতিকারক নয় এমন বহিরাগত উপাদান (যেমন: কিছু খাদ্য উপাদান, উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া) এর বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত বা অতিরিক্ত প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া (immune response) সৃষ্টি হওয়া রোধ করা হয়। অর্থাৎ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শরীরের ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখে। তাদের এই আবিষ্কার এক নতুন গবেষণা ক্ষেত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের মতো অসুখের নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের পথ খুলে দিয়েছে।
গত বছর (২০২৪) চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিজ্ঞানী ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রুভকুন। তারা মাইক্রোআরএনএ আবিষ্কার এবং জিন নিয়ন্ত্রণে ট্রান্সক্রিপশন-পরবর্তী পর্যায়ে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উদ্ঘাটনের জন্য এই স্বীকৃতি অর্জন করেন।
চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, অর্থনীতি, শান্তি— ছয়টি বিভাগে ছয় দিন নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে ঘোষণা হবে চিকিৎসাশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য ও অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম। শুধু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে নরওয়ে থেকে।
সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে পদার্থবিদ্যায়, ৮ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রসায়নে, ৯ অক্টোবর বিকেল ৫টায় সাহিত্যে এবং ১০ অক্টোবর বিকেল ৩টায় শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া ১৩ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম।
আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোম ও অসলোতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে। প্রতি বিষয়ের বিজয়ীদের হাতে ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনারের চেক, একটি মানপত্র এবং একটি স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে।



