ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ

ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ
১ আগষ্ট, ২০২৫ ১০:০৭  
১ আগষ্ট, ২০২৫ ২১:৪১  

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ পূর্বাভাসের সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বলে জানাগেছে। 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণাধীন ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। চলছে প্লাস্টারের কাজ। গ্রাউন্ড স্টেশনে ২২৪ টেরাবাইটের স্টোরেজ স্থাপন করা হয়েছে। টেকনিক্যাল কাজের যন্ত্রাংশও চীন থেকে এসে পৌঁছেছে। প্রায় ১১টি স্যাটেলাইট থেকে এই গ্রাউন্ড স্টেশন সংযোগ পাবে।  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ প্রত্যাশিত গতিতে চলছে। বন্দর থেকে ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে সেকেন্ড ফেজের ১৪ ট্রাক মালামাল। দ্রুত এগুলো প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হবে। চাইনিজ ইঞ্জিনিয়াররা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রাখছেন। 

প্রকল্পের সমন্বয়ক চবি সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন জানান, স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং (এসজিএসএমআরএস) বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এর মাধ্যমে চীনের এইচওয়াই-১এসআই/ডি ও এফওয়াই-৪বি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, বাতাসের গতি এবং মেঘের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগেই সতর্কতা দেওয়া যাবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রযুক্তি স্থাপন হলে সমুদ্র ও বিমানবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে তথ্য, পূর্বাভাস, সতর্কতা ও পরামর্শ দেওয়া সহজ হবে। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে সহযোগিতা করা যাবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৬ মার্চ দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৬০ কোটি টাকার কারিগরি ও যান্ত্রিক সহায়তা দিচ্ছে চীনের জাতীয় সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেকেন্ড ইন্সটিটিউট অব ওশানোগ্রাফি’। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের প্রতিষ্ঠানটির যৌথ উদ্যোগে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

সূত্রমতে, দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ মেরিন ডেটা হাবে রূপান্তর এবং জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘এসজিএসএমআরএস ২০৩৫ মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সহায়তা করবে।

বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস পেতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ), জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) এবং ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি) এর মতো বিদেশি সংস্থার স্যাটেলাইট তথ্যের ওপর নির্ভর করে। এসব সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পূর্বাভাস দিতে ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এটি একদিকে যেমন সময় সাপেক্ষ, অন্যদিকে একটি পরনির্ভরশীল প্রক্রিয়া।