সায়েম স্যারের পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন ১৪তম দিনে, ছুটি কাটিয়ে ক্ষতি পোষানোর আশ্বাস শিক্ষকদের
শিক্ষক দিবসে ক্লাসে নয়, আন্দোলনের রাজপথে গোলাপের শুভেচ্ছায় সিক্ত চুয়েট শিক্ষকেরা
- বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শ্রেণীকক্ষের বদলে রাজপথের আন্দোলনে পাশে থাকায় শিক্ষকদের লাল গোলাপ উপহার দেয় চুয়েট শিক্ষার্থীরা
- উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে ১৪তম দিনে গড়িয়েছে চুয়েটের 'সর্বাত্মক শাটডাউন' আন্দোলন
- শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৭ম কার্যদিবসের কর্মবিরতি অব্যাহত; আন্দোলন সফল হলে ছুটির দিনেও ক্লাস নেওয়ার অঙ্গীকার
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শ্রেণিকক্ষে না থেকে ক্যাম্পাসের রাস্তায় আন্দোলনের মাঠে নিজেদের পাশে থাকায় শিক্ষকদের লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন আজ সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) ১৪তম দিনে গড়িয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিও অব্যাহত রয়েছে, যা তাদের মোট কার্যদিবসের সপ্তম দিনে গড়িয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ অক্টোবর, সোমবার সকালে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন চুয়েট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সদস্যরা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি স্বাধীনতা চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। শহীদ মিনারে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা শিক্ষকদের গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এছাড়া প্রতিদিনই শিক্ষক সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে টিএসসির সামনে মেঝেতে ও চেয়ারে বসে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলন সফল হলে ছুটির দিনেও ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষকরা।
আন্দোলনকালে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ বলেন, “আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এই দিনে যেখানে আমাদের শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেখানে আন্দোলনের ১৪তম দিনেও আমাদের অবস্থান কর্মসূচিতে থাকতে হচ্ছে। দাবি পূরণের জন্য আজও আমাদের রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। আজ আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে একসঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। আমরা চাই, অতিদ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক। সে কারণেই আমরা তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে অবস্থান করছি। আমরা দ্রুত এ সমস্যার একটি সমাধান চাই।”
র্যালি শেষে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, “অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আমরা আন্দোলন করে আসছি। এরই অংশ হিসেবে আজ আমরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, শিক্ষার্থীদের ছাত্রজীবন যেন বিলম্বিত না হয়। আমরা অত্যন্ত অহিংসভাবে আন্দোলন করছি। কোনো ধরনের ভাঙচুর বা রাস্তা অবরোধের মতো কর্মসূচি আমরা পালন করছি না। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হোক।”
আন্দোলন উপলক্ষে প্রতিদিনই বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও কার্ড প্রদর্শন ছাড়াও ক্যাম্পাস জুড়ে প্রতিবাদের গ্রাফিতি এবং দেয়ালচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে আন্দোলনের আলোকচিত্র। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসির প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে চলছে কড়া পাহাড়া।
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি। এরপর থেকে লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল, মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। আন্দোলনের ১৪তম দিনেও দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় চুয়েটে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
//ডিবিটেক/ইবাদ হোসেন/এসএমপি/আইএইচ//





