হামলায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ১৮ শিক্ষার্থী আহত
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ১৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নগরীর বালুচর নয়াবাজার এলাকার কিং ফুটসাল স্পোর্টস সেন্টারে ৬ আগস্ট (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ‘জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫’-এ অতিরিক্ত সময়ে খেলা চালিয়ে নেওয়ায় ঘটনায় দুপক্ষের সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে। সূত্রমতে, আহতদের মধ্যে ১১ জন শিক্ষার্থীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ও সদ্য পদোন্নত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী এক ঘণ্টার জন্য ফুটসাল মাঠ ভাড়া নিয়ে খেলা শুরু করেন। তবে নির্ধারিত সময় শেষে তারা আরও দেড় ঘণ্টা অতিরিক্ত মাঠ দখলে রেখে খেলায় অব্যাহত রাখেন। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ের জন্য ভেন্যু বুকিং করা অন্য খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশ করে আপত্তি জানান। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় থেকে শুরু হয় হাতাহাতি। পরে তা রূপ নেয় সংঘর্ষে। এসময় সেন্টারের অফিস কক্ষও ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১১ জন শিক্ষার্থীকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ছাত্রদের মধ্যে রাকিব, রুবেল ও মাহি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের ভাষ্য, এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত জায়গীরদার আল মামুন ওরফে বুলেট মামুন। সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীরা একজন হামলাকারীকে আটক করতে সক্ষম হন এবং তার কাছ থেকে মামুনের সম্পৃক্ততার তথ্য জানতে পারেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. শাহরিয়ার আলম জানান, শিক্ষার্থীদের হাতে আটক একজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত মামুনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই, তবে অতীতে তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বালুচর এলাকায় একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে।







