সচিবালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশে ডেটাবেজ করা হবে

সচিবালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশে ডেটাবেজ করা হবে
২ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৩৯  

গণমাধ্যমকর্মীদের সচিবালয়ে প্রবেশে ডেটাবেজ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ ছাড়া অন্যায়ভাবে বাদ পড়লে নীতিমালার আওতায় সাংবাদিকদের সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতিপত্র বা অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে দলীয় পরিচয়ে যেন কেউ সুবিধা নিতে না পারে প্রধানমন্ত্রীর এমন অভিপ্রায়ের কথাও প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী।   

২ মার্চ, সোমবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সচিবালয় কাভার করা সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল। 

মতবিনিময় কালে  তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘সচিবালয়ে প্রবেশের বিষয়ে আমরা মিডিয়া হাউজকে টার্গেট করে এক বা একাধিক কার্ডের মাধ্যমে এটা সমাধান করার চেষ্টা করব। অন্যায়ভাবে কেউ বাদ পড়ে গেলে আমরা নীতিমালার আওতায় অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেব।’

তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনাদের এ পেশাগত দায়িত্ব পালন করার যে পরিবেশ, এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমি মোটামুটি একটা পরিকল্পনা নিয়েছি। তার মধ্যে একটা অংশ হচ্ছে সিকিউরিটি ও এন্ট্রি সিস্টেমটা। কীভাবে এ দুটি সিস্টেম সহজ করা যায় তা দেখা হচ্ছে। যখন লেআউটটা করা হবে তখন আপনাদের প্রতিনিধি নিয়ে করব, যাতে এখানকার অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধাগুলো আপনাদের চাহিদামতো তৈরি করে দেওয়া যায়।’

মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘প্রত্যেকটি গণমাধ্যম সচিবালয়ের জন্য যদি নির্দিষ্ট প্রতিনিধি পাঠায়, প্রত্যেকটি গণমাধ্যম যদি তার দায়িত্ব পালন করতে পাঠায় এবং যদি সচিবালয়ে প্রবেশাধিকারটা যদি গণমাধ্যমের মিডিয়া হাউসের মাধ্যমে ঠিকঠাক করা হয়, তাহলে একদিকে চাপও কমলো আর অন্যদিকে আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করা (সহজ হলো)। এর বাইরে যারা অন্যান্যভাবে প্রয়োজন পড়ে তারা অন্য সময় বা অন্য কাজে আসলেন। কিন্তু গণমাধ্যমের কাজ করার জন্য যাতে তার নিজের মিডিয়া হাউস থেকেই তিনি যেন এই এখতিয়ারটা পান। আমাদেরও তখন হিসাব করতে সুবিধা হবে যে সচিবালয়ে প্রবেশ করার জন্য আজকে কোন মিডিয়া হাউস কয়জনকে পাঠিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরাও একটা ডাটাবেজ মেইনটেইন করতে পারব। কারণ কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তখন আবার একটা জবাবদিহিতার ব্যাপার থাকে। কয়জন ভিজিটর ঢুকছে, কে কে ঢুকছে, কে ঢোকে নাই, বাইরের লোক কে আসছে? তো তখন আবার একটা ইনভেস্টিগেটিভ সিস্টেমের মধ্যে ঢুকতে হয়। ফলে ওদেরকে আবার ওইটা সিকিউরড করতে হয়। তো আমি একটা প্রাথমিক ধারণা দিয়ে রাখলাম যে, আমরা এই বিষয়টাতে এন্ট্রির বিষয়টাতে আমরা মিডিয়া হাউসকে টার্গেট করে এক বা একাধিক কার্ডের মাধ্যমে এটা সমাধান করার চেষ্টা করবো। আর যত দ্রুত সম্ভব এটা করবো।’

অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডটা নিয়ে আমাদের যে কমিটি, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলে দেখেছি যে নীতিমালার ভিত্তিতে এগুলো করা দরকার, সারা দেশেই তো কোনো নীতিমালা চর্চা হয়নি।'

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আবার আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমস্ত বিষয়ে এত বেশি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চলতে চাচ্ছেন যে, আমাদেরকে সব সময় খেয়াল রাখতে হচ্ছে যে আমাদের লোকও যেন কোনো বেনিফিট যাতে না নিতে পারে। ফলে অ্যাক্রেডিটেশনের পুরো ব্যাপারটিকেই আমরা নীতিমালাটাকে আরও অনেক বেশি প্রয়োগযোগ্য করব এবং অবশ্যই এটা আপনাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেই করব।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘যদি এরকম কোনো ব্যত্যয় ঘটে থাকে তাহলে সেখানে আমরা সংশোধন আনব। আর যদি কোথাও দেখা যায় যে অন্যায়ভাবে কেউ বাদ পড়ে গিয়েছে, তাকে আমরা নীতিমালার আওতায় অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেব।

ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম