ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩,৯০১ কোটি টাকা

ঢাকা-কুমিল্লা ৮১ কিমি উড়াল রেলপথের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

  • ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে
  • প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের পর চার বছর লাগতে পারে
  • এলপিজি সরবরাহ, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন উপদেষ্টা

ঢাকা-কুমিল্লা ৮১ কিমি উড়াল রেলপথের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪১  

ঢাকা ও শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ সম্পূর্ণ উড়াল রেলপথ বা এলিভেটেড কর্ডলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমতে পারে। পাশাপাশি যাত্রার সময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কমানোর আশা করছে সরকার। প্রাথমিক হিসাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা।

১৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। জাহেদ উর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত প্রস্তাবিত ৮১ কিলোমিটার রেলপথের পুরোটাই উড়ালপথ হবে। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পুরো রেলপথ উড়ালপথে নির্মাণ করা হলে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহণের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চার বছর সময় লাগবে।

এদিকে, এলপিজির সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা। জুম বৈঠকের মাধ্যমে এসব পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে কর্মরত সব এলপিজি পরিবেশক ও ডিলারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের কাছ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও মাস্টার ডিস্ট্রিবিউটররা কী পরিমাণ এলপিজি পেয়েছেন, সেই তথ্যও সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি তথ্য যথাসময়ে পাঠানো এবং তথ্যের বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকদের অবিলম্বে নিজ নিজ জেলার এলপিজি পরিবেশক ও ডিলারদের সঙ্গে সভা করতে হবে। এসব সভায় সংশ্লিষ্ট জেলার সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি আরও জানান, এলপিজি সরবরাহের পুরো চ্যানেল অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শনাক্ত করে তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে সরবরাহের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

অপারেটর, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও পরিবেশকদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ডিলারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে উল্লেখযোগ্য অসংগতি থাকলে জেলা প্রশাসন তা আলাদাভাবে চিহ্নিত করবে। এলপিজি সরবরাহে অস্বাভাবিক ঘাটতি, সরবরাহ চ্যানেলে বিচ্যুতি অথবা অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায়ে সরবরাহের পরিমাণে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে বিষয়টি জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানাতে হবে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হলে জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানির বাজারে বর্তমানে কিছুটা অস্থিরতা রয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এলপিজি মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের একটি পণ্য এবং গৃহস্থালিতে অত্যাবশ্যকীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান সংকট কেটে যাবে।

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং সেখানে তাঁকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ড. ইউনূস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন এবং সেখানে বিমানবন্দরে তাঁকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, ড. ইউনূসের সরকারের কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতে পারে এবং তিনি নিজেও দেশে বসে সেই সমালোচনা করেছেন। তবে এ ধরনের হেনস্তা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী—প্রতিমন্ত্রী—এবং জুলাই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করা একজন অভিনেত্রীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা বা হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ঘটনাকে সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস হিসেবে দেখছে বলে জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই অভিনেত্রীর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) মর্যাদা পাওয়ার কথা, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে।

বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও জানান উপদেষ্টা। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার হয়েছে এবং সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে এলেও সরকারের কোনো সমস্যা নেই। বরং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, জুলাই আন্দোলন বা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্ত কেউ হেনস্তার শিকার হলে বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করে, যেন ঘটনাটি ওই ব্যক্তির প্রাপ্য ছিল। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা হিসেবে এ ধরনের সংবাদ উপস্থাপন বা বর্ণনাভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো আচরণ ফৌজদারি অপরাধ কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি। কিছু গণমাধ্যমের সংবাদ উপস্থাপনার ধরন মন্ত্রণালয়ের নজরে রয়েছে। এ ধরনের বিষয় পর্যবেক্ষণ করা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অংশ। তবে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নেবে, সেটি আলাদা বিষয় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

তিনি বলেন, ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা কীভাবে করা হচ্ছে এবং তাঁকে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা আইনি সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, সে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক গণমাধ্যমের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ঘটনা ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে। তবে কেউ অস্বাভাবিক বা অযৌক্তিক ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করলে তা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যাত হয় বলে তিনি মনে করেন। এ ধরনের উপস্থাপনার মাধ্যমে খুব বেশি লাভ হয় বলেও তাঁর মনে হয় না।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, কোনো গণমাধ্যম আইনি সীমা লঙ্ঘন করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। এ ধরনের বিষয়ে প্রতিকারের জন্য রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ রয়েছে।

//ডিবিটেক/জেএনও/এসভিপি/এমআইএসটি//