রিটের জেরে হয়রানির অভিযোগ কর্মকর্তাদের
বিটিআরসির চার উপপরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
- কমিশনের স্বার্থপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা তলব
- অডিট আপত্তি থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন কর্মকর্তারা
- চেয়ারম্যানের আকস্মিক পরিদর্শনের পর কক্ষ সিলগালা, ওএসডি ও বদলির ধারাবাহিকতায় নতুন নোটিশ
কমিশনের স্বার্থপরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে সহকর্মী ও বহিরাগতদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে চার উপপরিচালককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ১১ অক্টোবর, রবিবার বিকেলে পৃথক চারটি চিঠির মাধ্যমে এ নোটিশ জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য নেই বলে গণ্য করা হবে এবং বিধি অনুযায়ী একতরফা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশপ্রাপ্ত চার কর্মকর্তা হলেন বিটিআরসির উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহ, এস এম আফজাল রেজা, মোঃ জাকির হোসেন খান ও কাজী মোঃ আহসানুল হাবীব মিথুন।
কমিশন সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও সচিবকে সঙ্গে নিয়ে হঠাৎ উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহের কক্ষে যান। সেখানে আগে থেকেই অন্য চার কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের একজন জানান, তারা মূলত একসঙ্গে দুপুরের খাবারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তবে কমিশনের ভাষ্য, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিধি অনুযায়ী ওই দিন বিকেলেই সনজিব কুমার সিংহকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয় এবং পরদিন তার কক্ষ সিলগালাসহ বাকি তিন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করা হয়।
সর্বশেষ ১১ অক্টোবর চার কর্মকর্তাকে দেওয়া নোটিশে অভিযোগ করা হয়, অফিস চলাকালীন এবং অফিস সময়ের পরেও তারা কমিশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী কার্যকলাপে অফিসের সহকর্মী ও বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ ধরনের আচরণ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২২ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর পরিপন্থী।
তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, পদোন্নতির অনিয়মের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করার পর থেকেই তাদের ওপর ধারাবাহিক অন্যায্য ও হয়রানিমূলক আচরণ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
//ডিবিটেক/এসএমপি/বিপিসি/এমআইএস//





