স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ
স্মার্ট উদ্যোগে পৌনে ২ কোটি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন
টেকসই উন্নয়নে দেশের কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে গত পাঁচ বছরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় নানা উদ্যোগের মাধ্যমে ১ কোটি ৮০ লক্ষাধিক মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রাবিবার (১৮ মে) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নেয়া হাওর অঞ্চলে জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, মৌচাষে মূল্য সংযোজন, যশোরে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, গাজীপুরে যুব প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং দুর্যোগপ্রবণ চরাঞ্চলে বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টিতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এসময় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, আমাদের ভূমিকা শুধু ব্যাংকিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৪ সালেই আমাদের কমিউনিটি প্রোগ্রামগুলো থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছে। ম্যানগ্রোভ রোপণ, কৃষি উদ্ভাবন, গ্রামীণ চক্ষু চিকিৎসা সেবা এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণের মতো উদ্যোগগুলো ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যেরই অংশ।
নাসের এজাজ বলেন, ‘একটি সীমিত শাখা-সম্পন্ন বিদেশি ব্যাংক হিসেবে আমাদের নির্ভরযোগ্য স্থানীয় অংশীদাররাই আমাদের প্রকৃত শক্তি। আমরা সংখ্যার চেয়ে মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তনে গুরুত্ব দিই।’
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ও ব্র্যান্ড ও মার্কেটিং, বিটপি দাস চৌধুরী জানিয়েছেন, এসএএফ এর সহযোগিতায় ‘স্মার্ট কৃষি গ্রাম উদ্যোগ’ এর মাধ্যমে যান্ত্রিকীকরণ, সমন্বিত পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, ফসল পরবর্তী পরিচর্যা ও উপকরণ সরবরাহকারী ও পরামর্শদাতা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ১৪৫০ জন কৃষকের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি কৃষকে উৎপাদন বৃদ্ধি ও খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে। ইউসেপ বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় গাজীপুরে যুব দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান প্রকল্পে স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল সার্ভিসিং মোবাইল সার্ভিসিং, মেশিন চালনার মতো প্রশিক্ষণ দিয়ে গ্র্যাজুয়েটদের গড় মাসিক আয় ১০,০০০ টাকার বেশি হয়েছে।
এছাড়াও ব্র্যাক এর মাধ্যমে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের খাদ্য নিরাপত্তায় বন্যা স্থানীয় বাজার চ্যানেল ও কৃষি উপকরণ সহায়তার মাধ্যমে সহনশীল ফসল পরিকল্পনা ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি কৌশল গ্রহণের সুফল হিসেবে ১৫০০ কৃষকের ৮০% জানিয়েছেন, তাদের খাদ্যের প্রাপ্যতা বেড়েছে এবং বছরের সব সময় আয় হচ্ছে। কেএমএসএস এর মাধ্যমে যশোরে সংগঠিত ফুলচাষ কেন্দ্রে বাজার ও পাইকারি ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহের সুবিধা নিশ্চিত করে জারবেরা চাষ, পলিহাউস ব্যবস্থাপনা, ছাঁটাই পদ্ধতি ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। এতে প্রতি ফুলচাষী কৃষকের গড় মাসিক আয় ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়ন সংস্থা বাসা এর মাধ্যমে নিরাপদভাবে মধু সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, আর্থিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি মৌচাষির বার্ষিক আয় ২৫,০০০ টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিটপী বলেন, “আমাদের অংশীদার ও কমিউনিটিগুলো সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের চালক। এই যাত্রায় তাদের পাশে থেকে কাজ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এ বছরের প্রতিটি সাফল্য কেবল সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয় — প্রতিটি মাঠ, ঘর, পলিহাউস আর মৌচাকে গড়ে উঠেছে আশার গল্প, আত্মমর্যাদা আর টিকে থাকার অনুপ্রেরণা।“







