ডিজিটাল রূপান্তর ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে জোর
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ষষ্ঠ বাংলাদেশ ফিনটেক সামিট
- স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি থেকে এজেন্টিক এআই ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সক্ষমতা অর্জনে বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বারোপ
- পরবর্তী ১০ কোটি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছাতে ক্যাশলেস লেনদেন ও ইন্টারঅপারেবিলিটি সম্প্রসারণ
- এআই গভর্নেন্স, নিরাপদ অবকাঠামো ও নিয়ন্ত্রক স্যান্ডবক্স নিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা
ডিজিটাল ব্যাংকিং অবকাঠামোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, এজেন্টিক বুদ্ধিমত্তা এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক রূপান্তরের রূপরেখা নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফিনটেক সামিটের ষষ্ঠ আসর। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে ১০ অক্টোবর, শনিবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে দিনব্যাপী ‘মাস্টারকার্ড প্রেজেন্টস সিক্সথ বাংলাদেশ ফিনটেক সামিট পাওয়ার্ড বাই ঢাকা ব্যাংক পিএলসি অ্যান্ড ইন অ্যাসোসিয়েশন উইথ উপায়’ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকার, ফিনটেক উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল কেবল প্রাথমিক ডিজিটাল ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে টেকসই ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলা। স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এক্সিকিউটিভ এডিটর সাজিদ মাহবুব বলেন, দেশের ফিনটেক অগ্রযাত্রার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে প্রাথমিক ডিজিটাল ব্যবহারকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সক্ষমতায় রূপান্তরের ওপর। উদ্ভাবন তখনই সফল হবে যখন তা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করবে এবং সেবা গ্রহণের সুযোগকে আরও সহজ করবে। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সমন্বিত মানদণ্ড নিয়ে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
সম্মেলনের মূল প্রবন্ধে বক্তব্য দেন ট্রান্সফাই গ্লোবালের চিফ ব্যাংকিং অ্যান্ড নেটওয়ার্ক অফিসার নওশাদ হুসাইন এবং জিএক্সব্যাংকের রিজিওনাল হেড অব প্রোডাক্ট খুয়ান ইউ লি। তারা আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকিং ব্যবস্থা, প্রযুক্তি একীভূতকরণ এবং শূন্য থেকে ১০ লাখ গ্রাহকে পৌঁছানোর ডিজিটাল ব্যাংকিং কৌশল তুলে ধরেন। এ ছাড়া বিশেষ এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ অধিবেশনে কুবে মানির সিইও গাজী ইয়ার মোহাম্মদ প্রচলিত অটোমেশন থেকে ‘এজেন্টিক ইন্টেলিজেন্স’-এ রূপান্তরের তাৎপর্য এবং দেশের আর্থিক খাতে স্বায়ত্তশাসিত এআই ব্যবহারের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা আগামী এক দশকে এআই ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক সেবার আমূল পরিবর্তন এবং পরবর্তী ১০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে ক্যাশলেস ইন্টারঅপারেবিলিটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। সেই সাথে নিরাপদ ও স্কেলেবল প্রযুক্তি অবকাঠামো, রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স, ডেটা নিরাপত্তা, এআই গভর্নেন্স ও গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে ঢাকা ব্যাংক পিএলসির এমডি ও সিইও ওসমান এরশাদ ফয়েজ, পূবালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোহাম্মদ আলী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের এমডি ও সিইও ফারজানা চৌধুরী, ব্যাংক এশিয়ার উপদেষ্টা আলী রেজা ইফতেখার, উপায়ের এমডি ও সিইও শ্যামল বি দাস, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা লাবণী, র্যাপটাসের সিইও ইউসুফ ফারুক এবং আইইউবির প্রফেসর ইমরান রহমানসহ শীর্ষস্থানীয় করপোরেট নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/এফটিএসি/এসএমপি/বিপিসি//





