ঝুঁকি চিহ্নিত করে দ্রুত সহায়তা
ডিজিটাল ব্যবস্থায় সহজ সামাজিক সুরক্ষার তাগিদ
- সরকারি সেবা পেতে নাগরিককে একাধিক দপ্তরে ঘুরতে না দেওয়ার তাগিদ
- স্বচ্ছ ডিজিটাল ব্যবস্থায় দ্রুত সামাজিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান
- জলবায়ু ও নগর ঝুঁকিতে সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব
নাগরিকের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দপ্তরনির্ভর জটিলতার বদলে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা ও স্বচ্ছ ডিজিটাল সেবা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তাঁর মতে, একজন নাগরিককে সরকারি সহায়তা পেতে একাধিক দপ্তরের দরজায় ঘুরতে হবে না; রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকের দুর্বলতা ও ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
৪ অক্টোবর, রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে’ শীর্ষক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাষ্ট্রের উচিত নাগরিকের দুর্বলতা ও ঝুঁকি চিহ্নিত করে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং স্বচ্ছ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। তাঁর মতে, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে নাগরিককে একই সেবা পেতে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে যেতে না হয়।
তিনি বলেন, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল বা এনএসএসএস গ্রহণের পর বাংলাদেশ এর প্রথম ১০ বছর পার করেছে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সরকার নতুন কৌশল প্রণয়নের চেষ্টা করছে। এ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বাংলাদেশ অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কেবল রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দয়া বা করুণা বিতরণের বিষয় নয়। এর লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের মানবিক মর্যাদা, টিকে থাকার সক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সাফল্য মূল্যায়নে শুধু কত টাকা ব্যয় করা হচ্ছে, সেটিকে মাপকাঠি না করার আহ্বান জানান তিনি। বরং বরাদ্দ অর্থ কতটা কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং ঝুঁকি মোকাবিলা করে উন্নত জীবন গড়ে তুলতে মানুষের সক্ষমতায় কতটা পরিবর্তন আনছে, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে নগর দারিদ্র্য, অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, চিকিৎসা ব্যয়, বেকারত্ব এবং আকস্মিক আয় কমে যাওয়ার মতো ঝুঁকিও পরিবারগুলোকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এসব পরিবর্তনশীল ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে কারা ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং কীভাবে দ্রুত সেই সহায়তা পৌঁছানো যায়—তা আরও কার্যকরভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। ৩ অক্টোবর, শনিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সিজিএস আয়োজিত এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব এতে অংশ নিয়েছেন।
তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি ৫ অক্টোবর, সোমবার শেষ হবে।
//ডিবিটেক/বিএনএন/এসএমপি/বিপিসি//





