নিয়মিত চোখ পরীক্ষার আহ্বান
চালকের চোখ পরীক্ষায় নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশা
- চালকের দৃষ্টিশক্তি যাত্রী ও সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত
- সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি চালকের চোখ পরীক্ষা
- ২৪ হাজারের বেশি মানুষ পেয়েছেন প্রয়োজনীয় চশমা
সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে চালকের শারীরিক সক্ষমতা ও দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, যাত্রীদের জীবন সুরক্ষায় চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
একই সঙ্গে চালকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় দৃষ্টিশক্তি যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের উদ্যোগে রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে ‘সি টু বি সেফ’ কর্মসূচির আওতায় এ অংশীজন সংলাপ ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সরকারি প্রতিনিধি, পরিবহন খাতের নেতা, উন্নয়ন সহযোগী ও সড়ক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ অংশ নেন।
পেশাদার চালকদের জন্য নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী চশমা সহজলভ্য করার বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলাই ছিল আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, আইন প্রয়োগ ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চালকের স্বাস্থ্য ও দৃষ্টিশক্তির বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, “একজন চালক যখন স্টিয়ারিং হাতে নেন, তখন শত শত যাত্রীর জীবন তাঁর ওপর নির্ভর করে। তাই চালকের পরিষ্কার দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত করা শুধু একজন ব্যক্তিকে সহায়তা করার বিষয় নয়; এটি অসংখ্য যাত্রীর জীবন সুরক্ষার বিষয়। এ ক্ষেত্রে ভিশনস্প্রিংয়ের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কারণ সড়ক নিরাপত্তা কেবল পরিবহন ব্যবস্থার বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবন, জননিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
“আমি নিজেও এ উদ্যোগের আওতায় চোখ পরীক্ষা করিয়েছি এবং এক জোড়া চশমা পেয়েছি। চালকদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও চোখ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময়। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, চালনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সরকার, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিংয়ের লক্ষ্য, কার্যক্রম ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এরপর সড়ক নিরাপত্তায় পরিষ্কার দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা এবং ‘উন্নত দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্যানেলে অংশ নেন ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মাশিউর রহমান। আলোচনা সঞ্চালনা করেন ভিশনস্প্রিংয়ের প্রকল্প পরিচালক শাহরোজ জলিল।
মিশা মাহজাবিন বলেন, বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় ২ কোটির বেশি মানুষ দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চালকও রয়েছেন। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকির অন্যতম কারণ। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চশমা পাওয়ার সুযোগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি বলেন, ভিশনস্প্রিং ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লাখ মানুষকে রিডিং গ্লাস বা পড়ার চশমা দিয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য শুধু মানুষের দৃষ্টিশক্তির উন্নতি নয়; চালকদের জন্য চোখের সেবার সুযোগ বাড়িয়ে দেশের সড়ককে আরও নিরাপদ করাও এর অংশ।
ভিশনস্প্রিংয়ের ‘সি টু বি সেফ’ কর্মসূচির আওতায় চালক ও পরিবহন খাতের কর্মীদের চোখ পরীক্ষা করা হয়। দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা থেকে সৃষ্ট সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
ভিশনস্প্রিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩০ হাজারের বেশি চালক ও পরিবহন খাতের কর্মীর চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি সংশোধনের প্রয়োজন ছিল এমন ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে চশমা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে কর্মসূচিটি শুরুর সময় দুই বছরের মধ্যে ৫০ হাজার বাস ও ট্রাকচালকের চোখ পরীক্ষা এবং ৩০ হাজার জোড়া চশমা বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস; ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মাশিউর রহমান; বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান; বিআরটিসির চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান।
খোলা আলোচনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এতে অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, অবদান রাখা সংগঠনগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং দেশের সড়ক নিরাপত্তা উদ্যোগে চোখের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
//ডিবিটেক/এজেডসি/এসএমই/এমভিএনও//





