পরবর্তী ধাপে হবে ১৮ মেগাপ্যাসকেল পরীক্ষা
রূপপুরে ১৬ মেগাপ্যাসকেল পিওআরভি টেস্ট সফল
- পারমাণবিক রিয়্যাক্টরের প্রেসারাইজড সিস্টেমে ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপে সাফল্য অর্জন
- প্রাইমারি সার্কিটের সেফটি ভালভ ও মেকানিক্যাল রিলিজ সিস্টেমের সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া
- পরবর্তী ধাপে ১৮ মেগাপ্যাসকেল উচ্চচাপে পরীক্ষার জন্য পূর্ণ প্রস্তুত টেকনিক্যাল দল
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জটিল হাইড্রো-মেকানিক্যাল প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের ধারাবাহিকতায় পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে (Unit-1) প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (PORV/POSV)-এর ১৬ মেগাপ্যাসকেল (MPa) চাপের উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এনপিসিবিএল (NPCBL) এর সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্রে প্রকাশ, ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার সকালে টেস্ট সফল হওয়ার পর অবিলম্বে আরও উচ্চমাত্রার ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরবর্তী ধাপে কারিগরি পরীক্ষা শুরু করা হচ্ছে।
সূত্রটি বলছে, ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে শেষ হওয়া এই হাই-প্রেসার টেস্টটি আগের দিন রাত থেকে শুরু করা হয়। কেন্দ্রের মেইন কন্ট্রোল রুম (MCR) ও ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম (ECR) থেকে একযোগে কন্ট্রোল ভালভগুলোর কার্যকারিতা এবং এর সঙ্গে যুক্ত মেইন সেফটি ভালভগুলোর (MSVs) অপারেশনাল রেসপন্স পর্যবেক্ষণ করা হয়। সম্পূর্ণ অনুমোদিত নির্দেশিকা, অগ্নিনির্বাপণ প্রোটোকল ও রেডিয়েশন সেফটি প্যারামিটার কঠোরভাবে মেনে ভালভের খোলা-বন্ধ হওয়া, অ্যালার্ম এবং প্রসেস ডেটা যাচাই করা হয়। নির্ধারিত সময়সূচির চেয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই কমিশন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম (Rosatom) জানায়, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি জটিলতা কাটার পর বিকল্প রুটে আজ ১ অক্টোবর থেকেই দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে। আগামী ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৭টি কার্গো ফ্লাইটের মাধ্যমে দ্বিতীয় ইউনিটের যাবতীয় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হবে।
এর আগে ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে (Unit-1) সফলভাবে ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হয়, যা রূপপুরকে নির্মাণাধীন পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনিং বা উৎপাদন-প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপে উন্নীত করে। বর্তমানে প্রথম ইউনিটের সেফটি ভালভের ত্রুটি মেরামত ও অভ্যন্তরীণ কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। পরবর্তীতে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে প্রথম ইউনিটটি ১,২০০ মেগাওয়াট পূর্ণ সক্ষমতায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে পৌঁছাবে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ চালু করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) এবং রাশিয়ার জেএসসি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (ASE) যৌথ বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন এই কেন্দ্রের মেগা তথ্য অনুযায়ী, এটি ২,৪০০ মেগাওয়াট মোট উৎপাদন সক্ষমতার (প্রতিটি ১,২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট) ৩+ প্রজন্মের উন্নত VVER-1200 থার্মাল নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টরভিত্তিক কেন্দ্র। ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই মেগা প্রকল্পে ৯০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় ঋণ সরবরাহ করছে রাশিয়া। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ এই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে তা বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি কার্বন নির্গমন কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনবে।
//ডিবিটেক/ডিএফআর/এসএমপি/আইএইচ//





