প্রায় দুই হাজার ড্রোন শনাক্ত করল কাস্টমস
খেলনা ঘোষণায় কোটি টাকার ড্রোনের চালান আটক আইসিডিতে
- খেলনা ঘোষণার আড়ালে আমদানি করা ১ হাজার ৯৮০টি আধুনিক ড্রোন জব্দ
- আটক চালানের মোট ওজন ৬৫৮ কেজি এবং আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা
- আমদানি নীতিবহির্ভূত ড্রোনগুলোর উড্ডয়ন সীমা ও কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করছে কাস্টমস
উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি, ওয়্যারলেস যোগাযোগ ও স্বয়ংক্রিয় অ্যারোনটিক্যাল ডিভাইসের আমদানি নিয়ন্ত্রণ নীতির তোয়াক্কা না করে রিচার্জেবল খেলনার মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক ড্রোনের চালান জব্দ করেছে ঢাকা আইসিডি কাস্টমস হাউস। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানিয়েছে। অভিযানে ‘রিচার্জেবল রিমোট কন্ট্রোল খেলনা’ ঘোষণার বিপরীতে মোট ৬৫৮ কেজি ওজনের ১ হাজার ৯৮০টি আধুনিক ড্রোন শনাক্ত করা হয়; যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
অভিযানের বিষয়ে কাস্টমস কমিশনার কাজী মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, “আমদানি নীতিবহির্ভূত পণ্য প্রবেশ এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কাস্টমস হাউস, আইসিডি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমদানি করা পণ্যের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মিল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে কায়িক পরীক্ষা ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।” সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, ঢাকার চকবাজারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মিম কালেকশন’ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক ও শিশুদের খেলনা সামগ্রী আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। চালানে খেলনা থাকার কথা বলা হলেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দারা কনটেইনারটির বিস্তারিত কায়িক পরীক্ষা (ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন) সম্পন্ন করলে ঘোষণার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চপ্রযুক্তির ড্রোনের বাক্সগুলো বেরিয়ে আসে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তা ও আকাশসীমা নজরদারির স্বার্থে ড্রোন আমদানিতে বিশেষ কারিগরি ছাড়পত্র ও কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় আটককৃত যন্ত্রাংশগুলো আমদানি নিয়ন্ত্রিত পণ্যের আওতাভুক্ত কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এসব ড্রোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি চ্যানেল, ব্যাটারি ব্যাকআপ, পেলোড বহনের ক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ উড্ডয়ন সীমা (ফ্লাইট রেঞ্জ) প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানির সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক আর্থিক দলিলপত্র এবং শুল্ক নথির সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব ও যথাযথ জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
//ডিবিটেক/ডিপিও/এমএসআই/এসএমপি//





