ফোনে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

৫০৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, জিএম বরখাস্ত

  • ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ‘ভুতুড়ে’ বিল নিয়ে ব্যবস্থা
  • মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমসহ চারজন সাময়িক বরখাস্ত
  • গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

৫০৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, জিএম বরখাস্ত
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:২৫  

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার ‘ভুতুড়ে’ বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় মিটার রিডার তোরাব আলী, বিল সুপারভাইজার সিমা রানী রায় ও সোমা রানী ঘোষকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের জরুরি নির্দেশনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। ঘটনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন মন্ত্রী। পরে তিনি ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিলের তথ্য অনুযায়ী, মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের মঘি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা দেখানো হয়। অথচ ওই মাসে তার বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল মাত্র ২৩৫ ইউনিট।

মিটার রিডিং অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট তার মিটারে ১৬০ ইউনিট এবং ৮ সেপ্টেম্বর ৩৯৫ ইউনিট রিডিং ছিল। অর্থাৎ এক মাসে প্রকৃত ব্যবহার ২৩৫ ইউনিট।

তবে বিলে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা দেখানো হয়। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ এই অঙ্ক বেড়ে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে গ্রাহকের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ তা দাঁড়াত ২ হাজার ৫৬ টাকা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয় এবং পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। বিলে গ্রাহকের শ্রেণি ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়।

গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, এটি শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে গ্রাহকের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া জরুরি।

ঘটনাটি নিয়ে শালিখা উপজেলার চুকিনগরে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসে গিয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়। পরে বিল সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, টাইপিং মিসটেকের কারণে এমনটি হয়েছে। বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাহক বিলও পরিশোধ করেছেন। এ ভুলের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রাথমিক তদন্তেও একই তথ্য উঠে এসেছে। মিটার পরিবর্তনের সময় অসাবধানতাবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ায় ওই গ্রাহকের নামে অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গ্রাহককে জানান, ইতোমধ্যে বিলটি সংশোধন করে সঠিক বিল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সমস্যা হলে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য তিনি গ্রাহককে অনুরোধ করেন।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

//ডিবিটেক/টিবিপি/এসএমই/ডিপিও//