সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

সব স্তরের মানুষের সুরক্ষায় নতুন সাইবার আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ও যুবসমাজকে সুরক্ষায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশোধনী প্রস্তাব।
  • সাংবাদিকদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের আগাম অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
  • সার্টেন টাইম লিমিটে আপিল নিষ্পত্তি এবং মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশের সিদ্ধান্ত।

সব স্তরের মানুষের সুরক্ষায় নতুন সাইবার আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৯  

উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা, ডিজিটাল প্রাইভেসি প্রোটোকল এবং আধুনিক সাইবার লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কের সমন্বয়ে সমাজের সব স্তরের মানুষকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর অংশীজনদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকার এমন একটি সাইবার আইন প্রণয়ন করতে চায় যার মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষ নিরাপত্তা পাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমরা মনে করি, সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আইনটি সমৃদ্ধ হবে। সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করে এই আইন তৈরি করা হয়নি এবং কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে এর শিকার বা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এজন্য সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের পূর্ব অনুমতি নেওয়ার একটি বিশেষ প্রস্তাব যুক্ত করা হয়েছে।"

মামলা বা আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা কমাতে আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (time limit) নির্ধারণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "কাউকে যাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে থাকতে না হয়, সেজন্য আমরা এই নির্দিষ্ট সময়সীমা যুক্ত করেছি।"

আংশীজনদের পরামর্শ ও সুপারিশ সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রেস ইনফরমেশন ইউনিটের (পিআইইউ) প্রধানকে। এই প্রক্রিয়ায় আইটি ও তথ্য মন্ত্রণালয় সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন এবং আইটি মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল এতে যৌথভাবে কাজ করবে।

মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রাথমিক সুপারিশ পাওয়া যাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে খসড়াটি কেবিনেটে উপস্থাপনের আগেই সরকারি ওয়েবসাইটে সবার মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এটি বিলে রূপান্তর করে সংসদে পাঠোনো হবে।

 সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের বিস্তারিত আলোচনা এবং সংসদের বাইরে আয়োজিত সেমিনার-সিম্পোজিয়াম থেকে আসা জনমত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত আইনটি পাস করা হবে, যাতে তাড়াহুড়ো না করে একটি সর্বজনগ্রাহ্য আইন প্রণয়ন করা যায়।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম; আইসিটি বিভাগের সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

//ডিবিটেক/বিটিএন/এনএফসি/এমএসআই//