গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সুনির্দিষ্ট সংশোধন প্রস্তাব ও আদালতের অনুমতির বিধানের উদ্যোগ

সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের’ অপপ্রয়োগ চাই না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও গ্রেফতারের পূর্বে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব
  • পিআইও-কে ফোকাল পয়েন্ট করে মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সমন্বিত দল গঠন
  • খসড়া বিল ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও কেবিনেটে উপস্থাপনের আগে সাধারণের পরামর্শ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি

সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের’ অপপ্রয়োগ চাই না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৯  
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৩  

দেশে চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ যাতে কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয় এবং সাংবাদিকদের ওপর এর অপপ্রয়োগ না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারের সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আইনের আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বা গ্রেফতারের পূর্বে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার রাজধানীতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে (কক্ষ নং: ১২০১, বিল্ডিং নং: ৬) 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়া পর্যালোচনার নিমিত্ত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কন্সালটেশন সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, আইসিটি সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, এবং পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ প্রসংগসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। অংশীজনদের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালাম, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এবং প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইনটা করতে চাইনি, চাইও না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক সেটাও আমরা চাই না। সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এবং গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখার উপযুক্ত প্রস্তাব এসেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশগুলো আসবে, সেগুলোর মধ্যে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।" এছাড়া, মামলা বা আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকালের জটিলতা এড়াতে নির্দিষ্ট সময়সীমা (Time Limit) নির্ধারণের বিধান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আলোচনা সভার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আরও কিছু সময় নেওয়ার ও 'সেভিং ক্লজ' বা সুরক্ষা অনুচ্ছেদ যুক্ত করার যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সরকার তা সানন্দে গ্রহণ করেছে। সার্বিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও)-কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ প্রক্রিয়ার সমন্বয় সাধন করবে। এতে সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন এবং আইটি মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ প্যানেল কাজ করবেন।

আইন চূড়ান্তকরণের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে মন্ত্রী বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, অংশীজনদের কাছ থেকে আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত সুপারিশ ও রিকমেন্ডেশন পাওয়া যাবে। ১৫ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এরপর সংশোধিত খসড়াটি কেবিনেটে নিয়ে যাওয়ার আগে পুনরপি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ জনগণ ও অংশীজনেরা আবারো নিজেদের মতামত জানাতে পারেন। পরবর্তীতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পর্যালোচনার পর বিলটি কেবিনেটে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। কেবিনেট অনুমোদন দিলে তা জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে এবং সেখানে সরকারি-বিরোধী দল এবং সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মতামতের ওপর ভিত্তি করে কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়াই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আইনটি পাস করা হবে।

আইনটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেসের অপব্যবহার রোধ, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, পারিবারিক বন্ধন এবং দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যুবসমাজকে নানা সাইবার অপরাধ ও সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করতেই এই ভারসাম্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

//ডিবিটেক/বিটিএন/এনএফসি/এমএসআই//