বাজার চাহিদা অনুযায়ী সার্টিফিকেট কোর্স চালুর আহ্বান প্রেস সচিবের
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যবের প্রতিশ্রুতি; প্রযুক্তি কোর্স চালুর পরামর্শ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি কারিকুলামের ওপর প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৯০ জন প্রভাষককে তিন দিনের কোর প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ দিলো আইসিটি বিভাগের অধীন অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)। ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় দেয়া এই প্রশিক্ষকেরা শিগগিরই ৯০০ জন প্রভাষককে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ দোবেন। তারাই এই শিক্ষা ছড়িয়ে দেবেন দেশ জুড়ে ১২ হাজার কলেজ শিক্ষককে।
তবে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়েলটি সময়ের সঙ্গে হালনাগাদ করা ও আইসিটিতে স্নাতকোত্তর চালুর দাবি জানানো হলো প্রশিক্ষণের সমাপনীতে।
১০ নভেম্বর, সোমবার, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সমাপনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি ও টেলিকম উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক সোনালী দাশ ও চট্টগ্রাম কলেজের প্রভাষক ওমর শরিফ রায়হানের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দিয়ে বিশেষ সহকারি বলেন, জতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অবহেলিত। কিছুটা অপমানিত। তাদের টেনে না তোলা হলে বাংলাদেশ এগুতে পারবে না। জনমিতির মহেন্দ্রক্ষণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হওয়া চার ক্রেডিটের অনার্স কোর্স চালু একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়াই হাজার কলেজে প্রযুক্তি বিষয়ে সার্টিফিকেশন কোর্স চালু করার পরামর্শ দেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কে কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য এটুআই তে আইসিটি সেল খোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কম্পিটার ল্যাব না থাকাটা লজ্জার। আমরা আপাততঃ সীমিত আকারে এটা চালু করবো। চার ক্রেডিটে আটকে না থেকে এআই, ক্লাউড অন্তর্ভুক্ত করে দেশের চাহিদা পূরণে এগিয়ে আসুন।
বিশেষ সহকারী আরও বলেন, বাংলাদেশকে টেনে তুলতে হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে টেনে তুলতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেছনে ফেলে বাংলাদেশের ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশন সম্ভব নয়।
আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডঃ এএসএম আমানুল্লাহ, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ডঃ কাইয়্যুম আরা বেগম এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মাদ শফিকুল আলম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের উপ আবাসিক প্রতিনিধি দীপিকা শর্মা, এটুআই প্রকল্প পরিচালক মোঃ আব্দুর রফিক এবং আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণের বিস্তারিত তুলে ধরেন এটুআই প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট লিড আব্দুল্লাহ আল ফাহিম।
সভায় দেয়া বক্তব্যে ম্যনুয়ালটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপডেট করার পাশাপাশি প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যন্ত কোর্স কারিকুলামে ধারাবাহিকতা রাখা এবং টেকনিক্যাল শিক্ষক নিয়োগ ও প্রমোশন দেয়ার দাবি জানান মাদারীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক হাবিবুর রহমান।
প্রশিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, অবিলম্বে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিটি বিষয়ে স্নাতক কোর্স চালু করা দরকার।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি বলেন, আমরা শুধু বাংলাদেশের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি না। ভবিষ্যত বাংলদেশের ডিজিটল রূপান্তরের শক্ত ভিত্তি রচনা করছি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডঃ এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, বিগত সময়ে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে গভর্নিং বডি। আমরা এখনঅক্সফোর্ড বানাচ্ছি না। সিঙ্গাপুর, ভারত ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করতে চাই। পাইকেরি হারে বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। দেড় শতাধিক বিষয়ে পড়ানো হয়। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তাই তাদের বিভিন্ন ভাষা ও প্রযুক্তি শিক্ষা দিতে চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যেই ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব করেছি। এখন আড়াই হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব করা দরকার।
কারিগরি ও প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণে গুরুত্বারোপ করে প্রেস সচিব সফিকুল আলম বলেন, সিরামিকে রোবট বসছে। অটোমেশনে চাকরি এখন ঝুঁকির মুখে। তাই দেশের মানুষকে পলিটিক্যাল সায়েন্স, দর্শন, বিবিএ পড়ানোর দিন শেষ হয়ে আসছে। এখন দরকার জাপানিজ, কোরিও, চীনা ও আরবির মতো ভাষা শেখানো। হাওয়ায় পাল তুলে কম্পিউটার, এআই, রোবটিক বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, অনেক সময় প্রযুক্তি বিষয়ক পরিকল্পনা ক্লাসরুম পর্যন্ত পৌঁছায় না। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই দূরত্ব কমবে এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রযুক্তি সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাবে।
আয়োজকদের তথ্যমতে, এদিকে কোর প্রশিক্ষকের প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল আইসিটি কারিকুলাম বাস্তবায়নের জন্য মূল প্রশিক্ষকদের প্রস্তুত করা, ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়া, অনলাইন টুল ব্যবহার ও মূল্যায়ন কাঠামো সম্পর্কে অভিন্ন ধারণা তৈরি করা। একই সঙ্গে মাস্টার ট্রেইনার ও শিক্ষক পর্যায়ের পরবর্তী প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রস্তুতিও এই কর্মশালার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
এই কোর্স কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য এটুআই-এর সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আইসিটি কোর্স বাস্তবায়নের একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করে। ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহায়তায় অনলাইন ও সরাসরি শ্রেণিকক্ষ মিলিয়ে একটি মিশ্র (ব্লেন্ডেড) প্রশিক্ষণ পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে। এই মডেলের ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে মূল প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে তাঁরা মাস্টার ট্রেইনার ও মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন। ধাপে ধাপে এই প্রশিক্ষণ সারাদেশের কলেজে প্রসারিত হবে।







