খুলনায় ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ
ডিজিটাল লেনদেনে গাছ, ‘বিকাশ বন’
- গ্রিন পয়েন্টে ভার্চুয়াল গাছ তৈরি
- পূর্ণ গাছে বাস্তবে বৃক্ষরোপণ
- খুলনায় লাগানো হবে ২৫ হাজার গাছ
ডিজিটাল লেনদেনকে সরাসরি বাস্তব বৃক্ষরোপণের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ ‘বিকাশ বন’-এর আওতায় খুলনায় নতুন বনায়ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গ্রাহকের নির্ধারিত ডিজিটাল লেনদেন থেকে অর্জিত ‘গ্রিন পয়েন্ট’ বিকাশ অ্যাপের ভার্চুয়াল গাছকে বড় করবে; নির্দিষ্ট পয়েন্টে পৌঁছালে সেই ভার্চুয়াল গাছের বিপরীতে বাস্তবে একটি গাছ লাগাবে বিকাশ।
২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার, খুলনা সিটি করপোরেশন ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগে নগরীর সোলার পার্ক ও লিনিয়ার পার্কে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সোলার পার্ক এলাকায় গাছ লাগিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ কর্মসূচির আওতায় ধারাবাহিকভাবে খুলনায় ২৫ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ এবং বিকাশের নিয়ন্ত্রক ও করপোরেট বিষয়ক বিভাগের প্রধান ও নির্বাহী সহসভাপতি হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
লেনদেন থেকে বাস্তব বৃক্ষরোপণ
‘বিকাশ বন’ উদ্যোগে বিকাশ অ্যাপের নির্ধারিত ডিজিটাল লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহক ‘গ্রিন পয়েন্ট’ পান। ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ডিপিএস খোলা, অ্যাড মানি, ঋণ নেওয়া, মোবাইল রিচার্জ ও সেন্ড মানির মতো নির্ধারিত লেনদেন এ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।
গ্রিন পয়েন্ট জমার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপের ‘বিকাশ বন’-এ থাকা ভার্চুয়াল চারাগাছ ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ গাছে রূপ নেয়। নির্ধারিত পয়েন্ট অর্জনের পর ওই ভার্চুয়াল গাছের বিপরীতে বিকাশ বাস্তবে একটি গাছ রোপণ করে। পরে অ্যাপ থেকেই গ্রাহক সেই গাছের হালনাগাদ তথ্য দেখতে পারেন। অর্থাৎ ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে একটি বাস্তব পরিবেশগত কার্যক্রমকে যুক্ত করা হয়েছে এই ব্যবস্থায়।
জলবায়ু ঝুঁকিতে দক্ষিণাঞ্চল
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যৌথ বনায়ন কর্মসূচির আওতায় শুধু গাছ লাগানো নয়, গাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোন এলাকায় কোন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে এবং সেগুলোর পরিচর্যা কীভাবে হবে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনকে বৃক্ষরোপণে যুক্ত করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
খুলনা ও দেশের দক্ষিণাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলসহ সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সুন্দরবন শুধু অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে জীবন রক্ষা করে না, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ থেকেও উপকূলের মানুষ ও সম্পদকে সুরক্ষা দেয়। তাই উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা প্রয়োজন। খুলনার বনায়ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য বিকাশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ডিজিটাল সেবায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য
বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি গত ১৫ বছর ধরে আর্থিক সেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থা বাড়ানোর মাধ্যমে যাতায়াত, কাগজের ব্যবহার ও সরাসরি সেবা নিতে দীর্ঘসময় অপেক্ষার প্রয়োজন কমানোর চেষ্টা করছে। ডিজিটাল রসিদ, কাগজবিহীন ঋণ ও সংস্পর্শহীন পরিশোধসহ ২০০টির বেশি নগদবিহীন সেবাকে এ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এরই ধারাবাহিকতায় ‘বিকাশ বন’ ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণকে যুক্ত করছে। নির্ধারিত লেনদেনের মাধ্যমে গ্রাহকের অর্জিত পয়েন্ট একটি ভার্চুয়াল গাছের অগ্রগতি দেখায়, আর পূর্ণাঙ্গ ভার্চুয়াল গাছের বিপরীতে বাস্তবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সেই ডিজিটাল কার্যক্রমকে মাঠপর্যায়ের পরিবেশ উদ্যোগে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
//ডিবিটেক/এমএসএইচপি/পিবিআই/এসভিপি//





