বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্ব ও গবেষণার মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টরে এশিয়ার নেতৃত্বের সম্ভাবনা
বেয়ার সামিটে প্রকৌশলীদের ‘দ্বিতীয় পরিচয়’
- ৭ খ্যাতনামা প্রকৌশলীর পেশাগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তুলে ধরা হলো বহুমুখী প্রতিভা
- যৌথ ডিগ্রি, বিশ্বমানের ল্যাব ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব
- কেবল ‘লো হ্যাংগিং ফ্রুট’ নয়, টেকসই যৌথ উদ্যোগে দৃষ্টি দেওয়ার তাগিদ
‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’—বাংলায় প্রচলিত এমন প্রবচনের প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ পেলেন রাজধানীর নভোথিয়েটারে চলমান ‘জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর ও বেয়ার সামিট ২০২৬’-এর ৪র্থ প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা।
২৬ জুলাই, রবিবার সম্মেলনের সমাপনী দিনে সকাল সাড়ে ১০টায় ‘ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপ ফোরাম’ শীর্ষক এই তাৎপর্যপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মঞ্চে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ৭ জন দিকপাল প্রকৌশলী, যাদের মধ্যে ৫ জনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রেডো (Credo)-তে এনপিআই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আহমেদ শতিল হক প্যানেলটি সঞ্চালনা করেন।
পরিচয় পর্বে সঞ্চালক প্রতিটি প্রকৌশলীর মূল পেশার বাইরের ভিন্ন প্রতিভার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ব্রেইন গেইন ফাউন্ডার ড. আনিসুল খান একজন পর্বতারোহী, যিনি ৮,৫০০ ফুট উচ্চতা জয়ের পর এবার ১০,০০০ ফুটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ক্যাকটাস মেটেরিয়ালসের ক্রিস্টোফার গ্রুনম সুইডেনের অফিশিয়াল রেডিও ডিজে ও র্যাপ মিউজিশিয়ান। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই অধ্যাপক ড. হাসান উজ জামান চমৎকার ফুটবল খেলার পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত শিখছেন। এ ছাড়া এলঅ্যান্ডটি সেমিকন্ডাক্টরসের আহসান চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টে বড় ভূমিকা রাখছেন। প্যানেলে আরও অংশ নেন ইন্ডিয়ানার সেরা দাবাড়ু তথা পারডু ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিস এবং মার্স সল্যুশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ই চৌধুরী শামীম।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিশ্বস্ত ও টেকসই সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তুলতে বাংলাদেশের করণীয়। বক্তারা যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর (টেকনোলজি ট্র্যান্সফার), বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌথ ডিগ্রি চালু এবং কর্মস্থলের সংস্কৃতির মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা আলংকারিক ভাষায় কেবল ‘লো হ্যাংগিং ফ্রুট’ এ নজর না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যৌথ উদ্যোগ ও উন্নত গবেষণা ল্যাব স্থাপনের তাগিদ দেন। একই সঙ্গে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালুর পাশাপাশি গৃহীত পদক্ষেপগুলোর শুরুতে প্রণোদনা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তারা। এসব বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপে ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ এশিয়া অঞ্চল সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে বলে মত প্রকাশ করেন ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক প্রকৌশলীরা। আর শিক্ষায় হ্যান্ডস অন ডিগ্রি চালুতে পরামর্শ তাদের। শিক্ষার্থীদের পাশপাশি ফ্যাকাল্টিদেরও প্রশিক্ষণে সরকার বরাদ্দ রাখবে বলে মনে করেন তারা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেন, সফল হতে কমপক্ষে তিনটি ছোট বিশ্ববিদ্যালয় একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে চিপ ডিজাইন ও গবেষণা প্রকল্প শুরু করতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশে সফল বাংলাদেশি মেধাগুলোকে দ্রুত দেশে সমন্বয় করতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেন প্যানেল আলোচকরা।
//ডিবিটেক/ আইএইচ /ইডিপি//





