স্যাটেলাইট বিকল্প নয়, আইটিসিতে ডেটা সার্বোভমত্বের হুমকি

• স্যাটেলাইট ক্যাবলের বিকল্প নয় এবং ডিস্ট্রিবিউশনে আইএসপি যুক্ত
• যৌথ কনসোর্টিয়াম মডেলে ৯৫ শতাংশ সাবমেরিন ক্যাবল নির্মিত
• ২০ বছর পুরোনো সাবমেরিন ক্যাবলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি

স্যাটেলাইট বিকল্প নয়, আইটিসিতে ডেটা সার্বোভমত্বের হুমকি
৩১ আগষ্ট, ২০২৬ ১১:৩৪  
৩১ আগষ্ট, ২০২৬ ১২:০৫  

ইন্টারনেট সেবায় স্যাটেলাইট কখনোই সাবমেরিন ক্যাবল বা ব্রডব্যান্ডের বিকল্প হতে পারে না একইসঙ্গে আইটিসি দেশের তথ্য সুরক্ষা হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিডিনেট-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মশিউর রহমান।

সোমবার (৩১ আগস্ট, ২০২৬) গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। 

সিইও মশিউর রহমান জানান, ব্যাকহোল বা ডিস্ট্রিবিউশনে স্যাটেলাইট না থাকায় আইএসপির মাধ্যমেই সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমে আসল ইন্টারনেটের বিস্তার ঘটে। অপরদিকে ৬০ শতাংশ  আইটিসি সংযোগের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাই অপচয় হচ্ছে না, একসঙ্গে ডাটার নিরাপত্তাও হুমকির মুখে রয়েছে। তাই ডাটার সার্বোভৌমত্ব রক্ষায় নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, একটি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পে ৭০০ মিলিয়ন থেকে এক বিলিয়ন ডলার এবং ছোট ক্যাবলেও প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এত ভারী ইনভেস্টমেন্ট সম্ভব না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ৯৫ শতাংশ ক্যাবল কনসোর্টিয়াম মডেলে যৌথ অংশীদারিত্বে পরিচালিত হয়। কনসোর্টিয়াম মডেলের সুবিধাগুলো হলো খরচ ভাগ হওয়া, মাল্টি-কান্ট্রি ল্যান্ডিং রাইটস অর্জন, মালাক্কা প্রণালীর মতো স্পর্শকাতর এলাকায় রেগুলেটরি অনুমতি সুবিধা এবং মেইনটেনেন্স কস্ট ভাগ করে নেওয়া। বাংলাদেশে সিডিনেট, মেটাকো ও সামিট মিলে একটি প্রাইভেট লোকাল কনসোর্টিয়াম গঠন করা হয়েছে।

২০০২ সাল থেকে ব্যবহৃত সাবমেরিন ক্যাবলের ২০ বছরের ইকোনমিক লাইফ স্প্যান ২০২৫ সালেই শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে সিডিএনএ সিইও জানান, পুরনো ফাইবারে সিগন্যাল লস বাড়ে এবং ঘন ঘন রিপিটার নষ্ট হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ ও জাহাজের খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত হলে ব্যান্ডউইথের ডাইভারসিটি বাড়বে, আন্তর্জাতিক ডাটা সেন্টার বাংলাদেশে ইনভেস্ট করতে উৎসাহিত হবে এবং ৫ বছরের মধ্যে ব্রেক-ইভেনে পৌঁছে ইন্টারনেটের মূল্যও হ্রাস পাবে।

টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন ফারুক হোসাইন। এতে উপস্থিত ছিলেন মেটাকো সিইও আমিনুল হাকিম এবং মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন মেটাকো প্রজেক্ট লিড মাহমুদ শাহেদ। সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিন সমাপনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা সরকারের মূল এজেন্ডার অংশ এবং আন্তর্জাতিক চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই টেকনিক্যাল জ্ঞান বিশেষভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এমআইএসটি//