মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনে মহাকাশে নাসার নতুন টেলিস্কোপ
মহাবিশ্বের রহস্যময় 'অদৃশ্য জগত' এবং ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে আরও গভীর সন্ধান করতে মহাশূন্যে পাড়ি জমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নতুন পর্যবেক্ষণ যন্ত্র 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ'। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি 'ফ্যালকন হেভি' রকেটে চড়ে শক্তিশালী এই টেলিস্কোপটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।
নাসার নবনির্মিত এই টেলিস্কোপটি বিখ্যাত হাবেল টেলিস্কোপের চেয়ে অন্তত ১০০ গুণ বেশি পরিধি নিয়ে একবারে মহাকাশের ছবি তুলতে সক্ষম।
উৎক্ষেপণের পরপরই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, টেলিস্কোপটির সৌর প্যানেল ও সানশেড বা সুরক্ষাকবচ সফলভাবে মেলানো সম্ভব হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে এর ভেতরের অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জামগুলো একের পর এক সক্রিয় করা হবে।
এটি পুরোদমে কাজ শুরু করলে প্রতিদিন প্রায় এক দশমিক চার টেরাবাইট তথ্য পৃথিবীতে পাঠাবে। তবে মহাকাশের এই দূরবর্তী চোখ থেকে তোলা প্রথম ছবিগুলো দেখতে বিশ্ববাসীকে ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
মহাকাশ মিশনটির গুরুত্ব তুলে ধরে নাসার বিজ্ঞান বিষয়ক ডিরেক্টরেটের প্রধান নিকি ফক্স জানান, ন্যান্সি গ্রেস রোমান মূলত আবিষ্কারের এক নতুন দরজা খুলে দেবে। এটি আমাদের মহাজাগতিক ইতিহাসের গভীরতম প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কাছাকাছি নিয়ে যাবে। এর বিস্তৃত দৃষ্টিসীমা ও দ্রুত পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অদেখা জগতকে দৃশ্যমান করবে, যা সৌরজগতের বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার ভিত্তি তৈরি করে দেবে।
মহাবিশ্বের প্রসার গতি বাড়িয়ে দেওয়া রহস্যময় 'অন্ধকার শক্তি' বা ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটার নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি এই টেলিস্কোপ নতুন গ্রহ ও গ্রহ তৈরির প্রাথমিক ধাপগুলো পর্যবেক্ষণ করবে।
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, পুরো মিশন চলাকালে এটি প্রায় ১০০ কোটি গ্যালাক্সি থেকে আসা আলো বিশ্লেষণ করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গতিপ্রকৃতি অনুধাবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





