কারিগরি প্রযুক্তি শিক্ষা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ-চীন চুক্তি

বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় কারিগরি ও প্রযুক্তি খাতে সই হলো সমঝোতা

  • কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে
  • চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে ‘টিচার ট্রেনিং’ ও ‘সাইবার ল্যাঙ্গুয়েজ স্কিল’ সহ তিনটি নতুন প্লাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়
  • অনলাইন ডাটা, আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতার মাধ্যমে তরুণদের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় কারিগরি ও প্রযুক্তি খাতে সই হলো সমঝোতা
২৮ আগষ্ট, ২০২৬ ১৬:৪৭  

বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার উন্নয়ন এবং আধুনিক গবেষণা জোরদারে এক যৌথ প্রয়াসে আবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা শক্তিশালীকরণ এবং মানসম্মত প্রযুক্তিভিত্তিক ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৮ আগস্ট, শুক্রবার চীনের জিয়াংসি প্রদেশে জিয়াংসি প্রাদেশিক সরকার ও জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ এ চুক্তি সই সম্পন্ন হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ঝেং পেংউ। এ সময় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। এই সমঝোতার আওতায় আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দ্বিভাষিক শিক্ষাসামগ্রী প্রণয়ন, শিক্ষা-শিল্প সংযোগ, অনলাইন ও প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণা, শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, চীন সফর ও বিশেষায়িত কারিগরি শিক্ষা সহায়তায় কাজ করবে দুই দেশ।

মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে যৌথ প্রযুক্তিশিক্ষার প্রসারে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’ উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও জিয়াংসি প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক ফ্যান হংহুই। ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পেই হংওয়েই। এছাড়া ‘বাংলাদেশ চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ প্লাস স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া ও অধ্যাপক ঝেং পেংউ।

এসব উদ্যোগের ফলে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অনলাইন ডাটাভিত্তিক পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, ব্যবহারিক প্রকৌশল শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তি, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যার মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক শক্তিতে পরিণত করা হবে। শিক্ষা উপদেষ্টার মতে, বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে শিক্ষাকে দক্ষতায় এবং দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে রূপান্তর করাই এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য। উক্ত সম্মেলনে জিয়াংসি প্রদেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দুই দেশের প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/ পিআর/এএমপি/এমআইএস//