সাইবার হামলায় বিশ্বজুড়ে বন্ধ বোস্টন সায়েন্টিফিকের কার্যক্রম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ মেডিকেল ডিভাইস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোস্টন সায়েন্টিফিক ভয়াবহ এক সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানটির দৈনন্দিন কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক নথিতে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আইটি সিস্টেম ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অ্যাপ্লিকেশনে প্রবেশাধিকার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পেসমেকার ও ডিফিব্রিলেটরের মতো সংবেদনশীল চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ম্যাসাচুসেটস-ভিত্তিক এই জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানে হামলাটি স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ব্যাহত পণ্য সরবরাহ ও অফিসে বিশৃঙ্খলা
সাইবার হামলার কারণে বোস্টন সায়েন্টিফিকের নতুন অর্ডার গ্রহণ এবং বিশ্বজুড়ে মেডিকেল সরঞ্জাম পাঠানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ায় আয়ারল্যান্ডের কর্ক ক্যাম্পাসে কর্মরত হাজার হাজার কর্মীকে কাজ বন্ধ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট অবকাঠামো মূলত মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের ওপর নির্ভরশীল। তবে ঠিক কীভাবে বা কাদের মাধ্যমে এই হামলার সূত্রপাত ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবস্থাগুলো পুনরায় সচল করতে কত সময় লাগবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও নিশ্চুপ কর্তৃপক্ষ
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ রোগী বোস্টন সায়েন্টিফিকের বিভিন্ন মেডিকেল ডিভাইসের ওপর নির্ভর করেন। তবে এই সাইবার হামলার কারণে শরীরে প্রতিস্থাপিত ডিভাইসগুলোর কার্যকারিতা বা রোগীদের সরাসরি নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চকে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র শেনেল হেস্টিংস কেবল তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতিটি তুলে ধরেন। রোগীদের কোনো বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে কি না বা হামলার মূল ধরন কেমন ছিল- এ সংক্রান্ত প্রশ্নের কোনো সরাসরি জবাব দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে সাইবার হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকি
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটছে। বোস্টন সায়েন্টিফিকের ঘটনাটি সেই বিপজ্জনক ধারারই সর্বশেষ সংযোজন।
চলতি বছরেই অ্যাবট ল্যাবরেটরিজ এবং মেডট্রনিকের মতো বৈশ্বিক মেডিকেল ডিভাইস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। এর আগে ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্রাইকার’-এর ওপর বড় ধরনের সাইবার হামলা চালায়। ওই হামলায় মাইক্রোসফটের সেন্ট্রালাইজড ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের সুযোগ নিয়ে উইন্ডোজ নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা স্ট্রাইকারের হাজার হাজার কর্মীর ডিভাইস দূর থেকেই মুছে (ওয়াইপ) ফেলা হয়েছিল।
একের পর এক এসব হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা খাতের সামগ্রিক নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ





