ব্লুস্কাইয়ে পোস্ট করা যাবে ১০ মিনিটের বড় ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ব্লুস্কাই’ ব্যবহারকারীদের জন্য ভিডিও আপলোডের সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ মিনিট করেছে। এতদিন এই প্ল্যাটফর্মে সর্বোচ্চ ৩ মিনিটের ভিডিও পোস্ট করার সুযোগ ছিল।
অন্যান্য টেক্সট-ভিত্তিক সামাজিক মাধ্যমগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং ব্যবহারকারীদের ভিডিও কনটেন্ট তৈরির সুযোগ প্রসারিত করতেই মূলত এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ভিডিওর নতুন সময়সীমা ও সুবিধা
ভিডিওর দৈর্ঘ্য বাড়ানোর পাশাপাশি ফাইলের সর্বোচ্চ আকারের সীমাও বৃদ্ধি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা এখন থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ মেগাবাইট (এমবি) আকারের ভিডিও ফাইল আপলোড করতে পারবেন। সেই সাথে আগের তুলনায় ভিডিও আপলোডের গতি ২ থেকে ৩ গুণ দ্রুত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
ব্লুস্কাইয়ের এই ১০ মিনিটের নতুন সীমা জনপ্রিয় ভিডিও অ্যাপ ‘টিকটক’-এ সরাসরি ধারণ করা ভিডিওর দৈর্ঘ্যের সমান। এছাড়া ব্লুস্কাই যে বিকেন্দ্রীভূত ‘এটি প্রোটোকল’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, সেই একই অবকাঠামোতে পরিচালিত ব্লুস্ক্রিন, রিলো এবং স্কাইলাইটের মতো অন্যান্য অ্যাপগুলোতেও এখন থেকে দীর্ঘ ভিডিও পোস্ট করা যাবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মগুলোর চিত্র
সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় প্রতিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ভিডিও সেবাকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। যেমন মেটার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ‘থ্রেডস’-এ সর্বোচ্চ ৫ মিনিটের ভিডিও আপলোড করার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ ফ্রি বা সাধারণ ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ১৪০ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করতে পারলেও, তাদের পেইড ব্যবহারকারীরা ১৬ গিগাবাইট (জিবি) পর্যন্ত ফাইল সাইজের এবং ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা দীর্ঘ ভিডিও আপলোড করতে পারেন।
ইউনিক কনটেন্ট আপলোডে উৎসাহিত করতে এক্স সম্প্রতি একটি নতুন ভিডিও এডিটরও যুক্ত করেছে।
ব্যবহারকারী বৃদ্ধির প্রয়াস
ভিডিও সেবায় এমন বড় পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্লুস্কাই মূলত তাদের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়াতে চাচ্ছে। বিশ্বখ্যাত বাজার গবেষণা ও অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘সিমিলারওয়েব’-এর ডেটা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাস নাগাদ ব্লুস্কাইয়ের বার্ষিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ভিডিওর সুবিধা ও দ্রুতগতির আপলোড সিস্টেম নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ





