২০২৬-২৭ করবর্ষে অনলাইন রিটার্নে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন ও এনবিআরের প্রশ্নোত্তর
ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক: করছাড় ও ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
- ২০২৬-২০২৭ করবর্ষে সকল স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইন ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক
- ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাখিলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা করছাড়; বিলম্বে গুনতে হবে অতিরিক্ত কর
- স্বয়ংক্রিয় অ্যাসেসমেন্ট, তাৎক্ষণিক প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও এনএসডি থেকে সঞ্চয়পত্রের ডেটা সিঙ্কের সুবিধা
২০২৬-২০২৭ করবর্ষে সব স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর থেকে ২৫ আগষ্ট, মঙ্গলবার জারি করা নির্দেশনায় করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা, আর্থিক প্রণোদনা, জরিমানা এবং সিস্টেমে ডেটা এন্ট্রির ব্যবহারিক কারিগরি সমাধান তুলে ধরা হয়েছে।
এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে বিশেষ আর্থিক ছাড় দেওয়া হবে। ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল করলে নিট প্রদেয় করের ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা) করছাড় পাওয়া যাবে। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মে কোনো বাড়তি সুবিধা বা জরিমানা ছাড়াই দাখিল করা যাবে। তবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে জমা দিলে নিট করের ওপর ২ শতাংশ (সর্বনিম্ন ৩,০০০ টাকা) এবং ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে জমা দিলে ৫ শতাংশ (সর্বনিম্ন ৫,০০০ টাকা) অতিরিক্ত জরিমানা কর প্রযোজ্য হবে।
ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের (NSD) ডেটাবেজের সঙ্গে ই-রিটার্ন সিস্টেম সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ২০১৯ সালের ১ জুলাইয়ের পর কেনা সঞ্চয়পত্রের জন্য আলাদা সনদ লাগবে না; 'Import From NSD' বাটনে ক্লিক করলেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে। পরবর্তীতে 'Sync from Income' অপশন ব্যবহার করে উৎসে কর (TDS) সমন্বয় করা যাবে। যৌথ সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে আনুপাতিক উৎসে কর দাবি করতে হবে।
অনলাইনে দাখিল করা রিটার্নে কোনো ত্রুটি থাকলে দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে একবারের জন্য সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া গাড়িতে পরিশোধিত অগ্রিম আয়কর (AIT) সমন্বয়ের জন্য ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন ব্যাংক স্লিপের ট্রানজেকশন আইডি 'e-Return Ledger'-এ ইনপুট দিতে হবে। নারী করদাতাদের প্রোফাইলে লিঙ্গ সংক্রান্ত ত্রুটি থাকলে টিআইএন সিস্টেমে তা সংশোধন করে 'Sync with TIN' অপশনের মাধ্যমে ই-রিটার্ন প্রোফাইল হালনাগাদ করা যাবে।
রিটার্ন সফলভাবে দাখিল করার পরপরই স্বয়ংক্রিয় অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হয়ে যাবে এবং ওয়েবসাইট থেকেই করদাতারা প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও ট্যাক্স সার্টিফিকেটের সার্টিফাইড কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।
//ডিবিটেক/ জেএনও/ইএমএস//





