জেমস পোর্টাল থেকে পদায়ন সংক্রান্ত ডেটা অপসারণে তথ্য অধিকার কর্মীদের উদ্বেগ
জনপ্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে কর্মকর্তাদের তথ্য প্রত্যাহার
- gems.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৬ সহস্রাধিক কর্মকর্তার প্রোফাইল ও পদায়ন তথ্য অপসারণ।
- চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও ওএসডি সংক্রান্ত তথ্য সাধারণের প্রবেশাধিকারের বাইরে চলে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন।
- তথ্য অধিকার আইন ও ই-গভর্ন্যান্সের মূলনীতির পরিপন্থী বলে মত নাগরিক ও অধিকার বিশেষজ্ঞদের
কোনো পূর্ব ঘোষণা বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় নম্বর, বর্তমান কর্মস্থল ও পদায়ন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২৬ আগস্ট, ২০২৬ বুধবার সংশ্লিষ্ট পোর্টাল 'gems.gov.bd' পর্যালোচনায় এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি, ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যে জনসাধারণের সরাসরি ডিজিটাল প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে গেছে।
পূর্বে ওয়েবসাইটটিতে চুক্তিভিত্তিক এবং ওএসডি কর্মকর্তাদের তালিকাসহ বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৬ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তার পদায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ড উন্মুক্ত ছিল। বর্তমানে সে স্থানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রায় ১ হাজার ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার নাম, ইমেইল ও মোবাইল নম্বর প্রদর্শন করা হচ্ছে, যাঁদের মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দফতরের ওয়েবসাইটের কার্যক্রম তদারকি করা।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না এবং তিনি খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাবেন। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এসব তথ্য সরানো হয়েছে, তবে এর নেপথ্য কারণ তাঁর জানা নেই।
প্রশাসনিক তথ্য প্রত্যাহারের এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তথ্য অধিকার বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলারা। সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, "এ ধরনের সিদ্ধান্ত মোটেও সঠিক নয়। এটি জনপ্রশাসনের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা কমিয়ে দিয়েছে এবং এতে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ তৈরি হতে পারে।"
তথ্য অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস-এর ডেপুটি ডিরেক্টর রুহী নায জানান, উন্মুক্ত তথ্য মুছে ফেলা সরকারের ই-গভর্ন্যান্স এবং তথ্য অধিকার আইনের পরিপন্থী। তিনি বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত তথ্য সরিয়ে ফেলা জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত বাধা।
//ডিবিটেক/ টিএমজে/ইএমএস//





