অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নিবন্ধন পেয়েছেন ৭ ব্যবসায়ী

অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নিবন্ধন পেয়েছেন ৭ ব্যবসায়ী
৯ অক্টোবর, ২০২৫ ২১:৪২  
১০ অক্টোবর, ২০২৫ ০০:০৭  

চাঁদপুরের ইলিশ বলে অনলাইনে ইলিশ বিক্রিতে প্রতারণা ও হয়রানির ঠেকাতে কঠোর প্রদক্ষেপ নিয়েছে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলার স্থায়ী বাসিন্দা অনলাইনে যারা ইলিশ বিক্রি করেন তাদের কাছ থেকে নিবন্ধনের জন্য করা ৪৪ জনের আবেদন যাচাই-বাছাই করে সাতজন ব্যবসায়ীকে নিবন্ধন দেয়া হলো ৯ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার।

বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সাত ব্যবসায়ীর হাতে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য নিবন্ধন সনদ তুলে দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

নিবন্ধনপ্রাপ্ত প্রতিটি অনলাইন শপই ফেসবুক ভিত্তিক। এর মধ্যে ‘ইলিশ ভাইয়া চাঁদপুর’ এর উদ্যোক্তা মো: খোকন পাটওয়ারী। সনদ প্রাপ্ত অন্য অনলাইনগুলো হলো জাকির হোসেনের মাছ পল্লী, আব্দুল্লাহ আল মামুনের একিন শপ, তাজা ইলিশ ডট কম, ইলিশ রাণী, ইশতিয়াক আবিরের রূপালী বাজার এবং সজিব ইলিশের বাজার চাঁদপুর।  

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন অনলাইন মাছ বিক্রেতা জানান, এতে তারাও খুশি। কারণ, অসাধু লোকজন মাছ না দিয়েই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অপবাদের স্বীকার একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, কাগজপত্র সঠিক পাওয়ার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে সাতজনকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি এ ধরণের নিবন্ধন আমরা প্রতিবছর দিব। নিবন্ধনের জন্য কোন টাকা নেওয়া হয়নি। পরে ১ থেকে ২ বছরের জন্য নবায়নের জন্য পদ্ধতি চালু করা হতে পারে। আবার নতুন করে নিবন্ধন দিলে তখনও টাকা নেওয়া হবে না। আবার এর মধ্যে কেউ যদি তার ব্যবসা বন্ধ রাখেন, তার নিবন্ধন বাদ করে দেওয়া হবে। মূলত হচ্ছে ইলিশ নিয়ে চাঁদপুরের যে ঐতিহ্য সেটি সমুন্নত রাখতে চাই। যেন কেউ চাঁদপুরের ইলিশ বলে প্রতারণা করতে না পারে। এ বিষয়টি প্রতিহত করতে চাই।

ডিসি আরও বলেন, নিবন্ধন হওয়া ব্যবসায়ীদের তালিকা জেলা প্রশাসকের ওয়েব সাইটে দেওয়া হবে। এতে করে বাকি যারা আছে তারাও নিবন্ধিত হওয়ার জন্য আগ্রহী হবেন। আর যারা বাহিরে থেকে প্রতারণা করছেন তারা এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবেন। আমরা এই বিষয়টি প্রচারণা করবো।

তিনি নিবন্ধন পাওয়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা হাতিয়ার ইলিশ চাঁদপুরের বলে বিক্রি করবেন না। কারণ হাতিয়ার ইলিশ দাম কিছুটা কম। কোন ক্রেতা যেন প্রতারিত না হয়। একই সাথে চাঁদপুরের ইলিশের ঐতিহ্য ও সুনাম যেন অক্ষুন্ন থাকে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন জামিউল হিকমা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি রহিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।