হেলিকপ্টার ব্যবহার, বিরোধী নেতা গ্রেফতার ও সহিংসতার দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপানোর নির্দেশনা

ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদের ফোনালাপের প্রতিলিপি পেশ

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের মধ্যে হওয়া বেশ কিছু ফোনালাপের প্রতিলিপি প্রমাণ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদের ফোনালাপের প্রতিলিপি পেশ
১১ আগষ্ট, ২০২৬ ১০:২৯  
 125

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের মধ্যে হওয়া বেশ কিছু ফোনালাপের প্রতিলিপি ও অডিও প্রমাণ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে এ তথ্য ও যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই তৎকালীন সরকারের এই শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে ফোনালাপগুলো সম্পন্ন হয়, যেখানে আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার ব্যবহার, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঠে নামানো, বিরোধী দলীয় নেতাদের গ্রেফতার, পাল্টাপাল্টি আগুন দেওয়া এবং কূটনীতিকদের ব্রিফিং নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা ও আলোচনার তথ্য উঠে এসেছে।

​১৯ জুলাই দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের এক ফোনালাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে র‍্যাব ও বিজিবি-কে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ দেন এবং বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে বলেন, ‘যে কয়টারে পার উঠায়া নিয়া যাও।’

একই দিন বিকেল ২টা ৫৪ মিনিটের অন্য একটি ফোনালাপে ড. হাছান মাহমুদের সাথে কথা বলার সময় সেতু ভবনে আগুন দেওয়ার খবর শুনে শেখ হাসিনা ‘টিট ফর ট্যাট’ বা পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘তোরাও পুড়াবি আয় আমরাও পুড়াবো।’ 

অন্যদিকে, ২১ জুলাই বিকেল ৫টা ১২ মিনিটের ফোনালাপে ড. হাছান মাহমুদ কূটনীতিকদের সাথে করা একটি রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের বিবরণ দেন। তখন শেখ হাসিনা পরবর্তী রাজনৈতিক বয়ান বা ন্যারেটিভ ঠিক করে দিয়ে বলেন, ‘এই খুনের দায়িত্ব কাদের? তোমাদের এই আন্দোলন করার জন্যই তো এই খুনটা হলো এর দায় দায়িত্ব তো ওদের (ছাত্রদের) নিতে হবে।’

একই সাথে এই হত্যার দায় আন্দোলনকারীদের ওপর ফেলতে এবং বিদেশিদের বোঝাতে ‘রিলিজিয়াস অ্যাক্টিভিস্ট’ শব্দবন্ধটি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
​//ডিবিটেক/বিএমও/এমএসআই//