ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী চীন
বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অংশ হিসেবে অবকাঠামো ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ প্রযুক্তি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করতে অবকাঠামো ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ প্রযুক্তি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরে এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সফর চলাকালে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই)-এর আওতায় টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশন খাতে সহযোগিতা জোরদারে দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়েও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
সফর-পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্ট আরও জোরদার করতে চাই। সংস্কৃতি, মিডিয়া, প্রযুক্তি, জ্ঞান বিনিময় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”
মাহদী আমিন আরও জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে শিক্ষক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বেইজিং।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছিলেন, এই সফরে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি প্রটোকল এবং একটি অ্যাকশন প্ল্যান সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
সফর শেষে ২৬ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে তিনি চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে দেশে ফেরেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বিমানবন্দরে সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা তাকে স্বাগত জানান।
//ডিবিটেক/ডিএইচই/এমআই//





