দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক জোটের
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ ১০ দফা দাবি
- এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি
- বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবিলম্বে জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান
- এনটিআরসিএ ব্যতিরেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের কোনো ষড়যন্ত্র হলে শহীদ মিনারে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে জাতীয়করণ করার প্রধান দাবিসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছে 'এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট'। আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিসমূহ পেশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ কেবল শিক্ষকদের একার দাবি নয়, এটি দেশের লাখ লাখ অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের দাবি। জাতীয়করণ সফল হলে সাধারণ অভিভাবকেরা প্রতি মাসে নামমাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকা ফি দিয়ে সন্তানদের গুণগত শিক্ষা দিতে পারবেন।"
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পূর্ববর্তী বারংবার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অধ্যক্ষ আজিজী বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুবার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করা হবে। আমরা সরকারের কাছ থেকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাই।"
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (NTRCA) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার জোর দাবি জানান জোট নেতারা। কোনো বিশেষ কমিটির হাতে এ নিয়োগ ফিরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হলে সারা দেশের ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে সাথে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
১০ দফা দাবিনামা ও কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবুল বাশার লিখিত বক্তব্যে বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক অবহেলা, দুর্নীতি ও বৈষম্যের শিকার। জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১০ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও অবিলম্বে আন্তঃবদলি নীতিমালা প্রণয়ন।
২. ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর পদ পুনঃবহাল ও প্রতি মাসের ১ তারিখে বেতন প্রদান।
৩. কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ এবং স্কেলের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করা।
৪. শিক্ষক-কর্মচারীদের সুরক্ষায় ‘শিক্ষক-কর্মচারী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন।
৫. কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ল্যাব স্থাপন ও শিক্ষকদের উচ্চতর দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ।
৬. 'সহকারী প্রধান শিক্ষক (কারিগরি)' পদ সৃষ্টি এবং স্বতন্ত্র 'কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়' গঠন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষক কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মো. মতিউর রহমান, উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাশেদ মোশারফ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের সদস্য সচিব আশরাফুজ্জামান হানিফ, বাংলাদেশ ভোকেশনাল শিক্ষক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম সিয়াম প্রমুখ। আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা সতর্ক করে বলেন, দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
//ডিবিটেক/ বিডিএন/এসএমআই//





