বর্জ্যে বিদ্যুৎ, স্মার্ট ঢাকার নতুন অধ্যায়

আমিনবাজার-মাতুয়াইলে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দুই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ

  • বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
  • আমিনবাজার, মাতুয়াইলে দুই প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প
  • পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সময়মতো বাস্তবায়নে জোর

আমিনবাজার-মাতুয়াইলে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দুই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ
১২ জুলাই, ২০২৬ ১৩:২৯  

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা জোরদারে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ওয়েস্ট-টু-এনার্জি (Waste-to-Energy) প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রকল্প দুটিতে সর্বাধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদৎ স্বাধীন বৈঠকের তথ্য জানান।

বৈঠকে জানানো হয়, চীনের সিএমইসি গ্রুপ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজারে একটি আধুনিক ওয়েস্ট-টু-এনার্জি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পটি প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন নগর বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের আগস্ট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে এবং আগামী ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার বি অ্যান্ড এফ কোম্পানি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইলে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের আওতায় বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, এ মিথেনভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা (MWh) বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে, যা গড়ে দৈনিক প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমপরিমাণ। পাশাপাশি প্রকল্প থেকে সৌরবিদ্যুৎ, জৈব সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য ব্যবহার করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তরের এ ধরনের প্রযুক্তি একদিকে যেমন ল্যান্ডফিলে বর্জ্য ফেলার চাপ কমাবে, অন্যদিকে মিথেন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কার্বন নির্গমন হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং চক্রাকার অর্থনীতি (Circular Economy) বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।

প্রকল্প দুটি দ্রুত এগিয়ে নিতে স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনেরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, টেকসই ও জ্বালানি উৎপাদনমুখী হয়ে ওঠে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/জেএনএন / এসএস//