৪৩ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ বিডার; সবার আগে ৫টি আধুনিক স্টিল ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্ল্যান্ট

বেসরকারি বিনিয়োগের বড় সুযোগ: আলোচনায় ভারী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর ৫ জুলাই, রবিবার বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য একটি তালিকা ও সম্পদের পরিমাণ উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা। ইস্পাত ও ভারী প্রকৌশল খাতের শীর্ষ ৫টি প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও প্রকাশিত এই তালিকায় সফটওয়্যার, প্রকৌশলসহ টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের আলাদা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থান হয়নি।

বেসরকারি বিনিয়োগের বড় সুযোগ: আলোচনায় ভারী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাত
৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫০  

দেশে দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে পুরোপুরি চালু, আংশিক চালু ও পুরোপুরি বন্ধ ৪৩টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত করেছে সরকার। এর আগে গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী এসব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ৫ জুলাই, রবিবার রাষ্ট্রায়ত্ত এসব প্রতিষ্ঠানের নাম, এলাকা ও সম্পদের পরিমাণ উন্মুক্ত করে।

বিডা জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীনে ১০ হাজার একরের বেশি কৌশলগত শিল্পভূমি রয়েছে, যেখানে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সুবিধা বিদ্যমান। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী ইজারা (লিজ), যৌথ উদ্যোগ (জয়েন্ট ভেঞ্চার), পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর অথবা কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। 

প্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের অবস্থান:

বিডা প্রকাশিত মূল তালিকায় প্রধানত চিনিকল, কাগজকল, রাসায়নিক শিল্প, টেক্সটাইল মিল, পাটকল, কাচ কারখানা, সার কারখানা এবং ইস্পাত ও প্রকৌশল শিল্পের মতো ভারী ও ঐতিহ্যবাহী উৎপাদনমুখী খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো স্থান পেয়েছে। তবে এই তালিকায় সফটওয়্যার, প্রকৌশলসহ টেলিকম ও প্রযুক্তি (IT/Tech) খাতের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নেই।

বিডা জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ১০ হাজার একরের বেশি কৌশলগত শিল্পভূমি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সুবিধা এবং বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত বা স্বল্প ব্যবহৃত রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদকে পুনরায় উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আওতায় আনার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

তালিকাভুক্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে অলাভজনক, বন্ধ অথবা সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী ইজারা, যৌথ উদ্যোগ (জয়েন্ট ভেঞ্চার), পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর অথবা অন্যান্য উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে বিডা নিশ্চিত করেছে।

ইস্পাত ও ভারী প্রকৌশল খাতের ৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান

সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ইস্পাত ও ভারী প্রকৌশল খাতের ৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান হলো: 

১. পরিবেশবান্ধব আধুনিক স্টিল মিল (ছয়পুকুরিয়া, বগুড়া): সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এই পরিবেশবান্ধব স্টিল মিলটি বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বে দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ২. জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড - জেমকো (নর্থ পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম): ভারী বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির এই ঐতিহ্যবাহী কারখানাটি বর্তমানে সীমিত পরিসরে বা আংশিক চালু রয়েছে। একে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। ৩. প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড - পিআইএল (বারবকুণ্ড, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম): দেশের একমাত্র সরকারি গাড়ি সংযোজনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে আংশিক সচল। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এর আধুনিকায়ন ও পুনঃউন্নয়নের বিশাল সুযোগ রয়েছে। ৪. রেনউইক, যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড (কুষ্টিয়া): চিনি কলের যন্ত্রাংশ তৈরির এই পুরনো প্রকৌশল কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে অলাভজনক ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি আধুনিকায়নের জন্য প্রস্তুত। ৫. অ্যাটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড - এবিএল (টঙ্গী শিল্প এলাকা, গাজীপুর): মোটরসাইকেল সংযোজনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সীমিত আকারে চলছে। কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে এটিকে পুরোপুরি লাভজনক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

টেলিকম, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি খাত

বিডা প্রকাশিত মূল তালিকায় সরাসরি কোনো আইটি বা টেলিকম সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না থাকলেও, রাসায়নিক ও বিদ্যুৎ খাতের আধুনিক প্ল্যান্টের সহযোগী উন্নত প্রযুক্তি (Beauty Technology / Industrial Technology) এবং কাচ শিল্পের আধুনিকায়ন খাতের ৪টি প্রতিষ্ঠানকে এই প্রযুক্তির আওতায় চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো:

  • এএফসিসিএল-এর প্রিমিয়াম ফ্লোট গ্লাস, সোলার গ্লাস ও সোলার প্যানেল প্ল্যান্ট (আশুগঞ্জ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া): নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ও সোলার প্যানেল উৎপাদনের এই প্ল্যান্টটি আংশিক সচল, যা প্রযুক্তি খাতের বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্র।

  • উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি লিমিটেড - ইউজিএসএফএল (কালুরঘাট, চট্টগ্রাম): আধুনিক গ্লাস ও বিউটি-টেকনোলজি গ্লাস মেটেরিয়ালস তৈরির জন্য এটি বর্তমানে বন্ধ/সীমিত অবস্থায় রয়েছে।

  • জিপিএফপিএলসির ইউএফ-৮৫ প্ল্যান্ট (পলাশ, নরসিংদী): রাসায়নিক প্রযুক্তি নির্ভর এই আধুনিক প্ল্যান্টটি পুনঃউন্নয়নের জন্য প্রস্তুত।

  • জিপিএফপিএলসির ইনার লাইনারসহ ডব্লিউপিপি ব্যাগ কারখানা (ঘোড়াশাল-পলাশ): আধুনিক শিল্প প্যাকেজিং প্রযুক্তির এই কারখানাটি বিনিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে।

//ডিবিটেক/বিএনএন/এমআই//