বছরে তৃতীয়বারের মতো এক্সবক্সের দাম বাড়াল মাইক্রোসফট: নেপথ্যে কী?

বছরে তৃতীয়বারের মতো এক্সবক্সের দাম বাড়াল মাইক্রোসফট: নেপথ্যে কী?
২৮ জুন, ২০২৬ ১৩:২৯  

বিশ্বব্যাপী ভিডিও গেমপ্রেমীদের জন্য বড় ধাক্কা। নিজেদের জনপ্রিয় গেমিং কনসোল এক্সবক্সের দাম আবারও এক লাফে বড় অঙ্কে বাড়িয়ে দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। গত এক বছরের মধ্যে এটি প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় দফায় দাম বাড়ানোর ঘটনা। আগামী ১ আগস্ট থেকে নতুন এই বর্ধিত মূল্য বিশ্বজুড়ে কার্যকর হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক্সবক্সের ৫১২ গিগাবাইট মডেলগুলোর দাম ১০০ ডলার এবং ১ টেরাবাইট মডেলগুলোর দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের কারণে ২ টেরাবাইট মডেলটি বাজার থেকে পুরোপুরি তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কোন মডেলের দাম কত বাড়ল
দাম বাড়ার পর এক্সবক্সের বিভিন্ন মডেলের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে মাইক্রোসফট। আগে ৫১২ গিগাবাইটের এক্সবক্স সিরিজ এস পাওয়া যেত ৩৯৯ ডলারে, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ ডলারে। ১ টেরাবাইটের এক্সবক্স সিরিজ এস-এর দাম ৪৪৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৯৯ ডলার। এ ছাড়া ১ টেরাবাইটের এক্সবক্স সিরিজ এক্স ডিজিটালের দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৪৯ ডলার এবং ১ টেরাবাইটের মূল এক্সবক্স সিরিজ এক্স-এর দাম ৬৪৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ১ টেরাবাইটের প্রতিটি মডেলের দামই এক লাফে ১৫০ ডলার করে বেড়েছে।

দাম বৃদ্ধির আসল কারণ: চিপ সংকট
মাইক্রোসফট আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মেমোরি এবং স্টোরেজ যন্ত্রাংশের নজিরবিহীন ঘাটতি ও সরবরাহ সংকটের কারণেই তারা কনসোলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কনসোলের স্টোরেজ ও মেমোরি যন্ত্রাংশের দাম আগের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে এবং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই দাম আরও দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মতো গেমিং কনসোলগুলো সাধারণত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লাভ ছাড়াই, এমনকি অনেক সময় উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে বিক্রি করে থাকে। তাদের মূল লক্ষ্য থাকে পরবর্তীতে গেম ও সাবস্ক্রিপশন বিক্রি করে মুনাফা তোলা। কিন্তু যন্ত্রাংশের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় মাইক্রোসফট আর এই আর্থিক ক্ষতি নিজে বহন করতে পারছে না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খেসারত দিচ্ছে গেমাররা?
মাইক্রোসফট মেমোরি সংকটের কথা বললেও প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও সাধারণ গেমাররা এর পেছনে ভিন্ন কারণ দেখছেন। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটাসেন্টার তৈরিতে যে বিপুল পরিমাণ হাই-স্পিড মেমোরি চিপের প্রয়োজন হচ্ছে, তার বড় একটা অংশ ব্যবহার করছে স্বয়ং মাইক্রোসফট। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের এই অতি-বিনিয়োগই বাজারে সাধারণ মেমোরির সংকট তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গেমারদের একাংশের মতে—মাইক্রোসফট নিজেই যে সংকট তৈরি করেছে, এখন সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কেটে তারা সেই খেসারত তুলছে।

ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে বিকল্প অফার
দাম বাড়ার ধাক্কা সামলাতে মাইক্রোসফট বেশ কিছু বিকল্প সুবিধা চালু করার কথা জানিয়েছে। এখন কিনুন, পরে পরিশোধ করুন—এমন সুবিধার আওতায় মাইক্রোসফট স্টোরে সুদমুক্ত কিস্তিতে কনসোল কেনার সুবিধা আরও সহজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অ্যামাজনের মাধ্যমে ১ বছর পর্যন্ত সুদমুক্ত অর্থায়নে এক্সবক্স কেনা যাবে। এ ছাড়া অফিশিয়াল মাইক্রোসফট স্টোর থেকে সার্টিফাইড রিফারবিশড বা পুরোনো ত্রুটি সারিয়ে নতুনের মতো করা কনসোলগুলো মূল দামের চেয়ে প্রায় ১০০ ডলার কমে কেনার সুযোগ থাকবে।

তবে এই সমস্ত সুবিধার পরেও গেমারদের ক্ষোভ কোনোভাবেই কমছে না। ২০২০ সালে বাজারে আসার সময় যে এক্সবক্স সিরিজ এস-এর দাম ছিল মাত্র ২৯৯ ডলার, এখন সেটির দাম প্রায় ৫০০ ডলারে গিয়ে ঠেকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্বজুড়ে কনসোলপ্রেমীরা।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: জিএসএম এরিনা ও অনলাইন