চীনা প্রযুক্তি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়াল আমেরিকা

চীনা প্রযুক্তি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়াল আমেরিকা
২৮ জুন, ২০২৬ ১০:২১  

চীনা ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও প্রযুক্তির ওপর চলমান কঠোর নজরদারি আরও এক ধাপ বাড়িয়ে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশের যোগাযোগ খাতকে সুরক্ষিত করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এক দল চীনা প্রস্তুতকারকের তৈরি আরও বেশ কিছু সরঞ্জাম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ করেছে দেশটির ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন।

এই নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০২২ সালে জারি করা এফসিসির আগের একটি নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বড় করা হলো। সে সময় হুয়াওয়ে ও জেডটিই-এর মতো ৫টি শীর্ষ চীনা টেক জায়ান্টের নতুন মডেলের টেলিকমিউনিকেশন ও ভিডিও নজরদারি সরঞ্জাম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো কোম্পানিগুলোর তৈরি করা পুরোনো মডেলের প্রযুক্তিও। 

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ৫ চীনা কোম্পানি
•    হুয়াওয়ে
•    জেডটিই 
•    হাইতেরা
•    হিকভিশন 
•    দাহুয়া 

নতুন আদেশের মূল পরিবর্তন
২০২২ সালের নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর ছিল শুধুমাত্র ওই বছরের শেষের দিক থেকে ডিজাইন করা নতুন মডেলের পণ্যের ওপর। তবে নতুন আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে এই কোম্পানিগুলোর পুরোনো বা লিগ্যাসি মডেলের সরঞ্জামও আর যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা যাবে না। 

বিশেষ করে সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ভৌত নজরদারি এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবহৃত হয় এমন সব ধরনের পুরোনো ডিভাইসের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নতুন এই বর্ধিত নিষেধাজ্ঞা আগামী জুলাইয়ের শুরু থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে। 

এফসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে: “যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ খাতের ঝুঁকিগুলো কমিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।”

তবে এই আদেশের ফলে সাধারণ মার্কিনিদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছে কমিশন। যেসব নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই সরঞ্জামগুলো কিনে ব্যবহার করছেন, তারা সেগুলো আগের মতোই ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন; কেবল নতুন করে এই পণ্যগুলো দেশে আমদানি বা বাজারজাত করা যাবে না।

চীনা প্রযুক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কড়া অ্যাকশন
চীনের প্রযুক্তিগত আধিপত্য ও গোয়েন্দাগিরির আশঙ্কায় মার্কিন প্রশাসন গত কয়েক মাসে বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নিয়েছে:
•    ডিসেম্বর: চীনা ড্রোনের সমস্ত নতুন মডেলের আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়।
•    মার্চ: কম্পিউটার, ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসকে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করার মূল যন্ত্র—চীনা কনজ্যুমার রাউটারের নতুন মডেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
•    অক্টোবর: কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানির পার্টস বা যন্ত্রাংশ রয়েছে এমন নতুন ডিভাইসের অনুমোদন ব্লক করার পক্ষে ভোট দেয় এফসিসি।

অবশ্য হিকভিশন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গত ডিসেম্বরেই মার্কিন আদালতে মামলা দায়ের করেছে। তাদের দাবি, কমিশন তাদের আইনি ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, মার্কিন এফসিসি বর্তমানে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। যদি সেটি পাস হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম ক্যারিয়ারগুলো আর কোনো চীনা টেলিকম ফার্মের সাথে ইন্টারকানেক্ট বা সংযুক্ত হতে পারবে না। এর ফলে চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কোনো ডেটা সেন্টার পরিচালনা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: রয়টার্স