২০২৮ সাল থেকে আর ডিস্ক বা সিডি গেম তৈরি করবে না সনি
ভিডিও গেমের দুনিয়ায় একটি ঐতিহাসিক ও বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে জাপানি প্রযুক্তি জায়ান্ট সনি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের জনপ্রিয় গেমিং কনসোল প্লেস্টেশনের জন্য তারা ফিজিক্যাল বা ডিস্ক-ভিত্তিক (সিডি) গেম তৈরি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিচ্ছে। ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর পর থেকে গেমারদের নতুন যেকোনো গেম কেবল অনলাইনের ‘প্লেস্টেশন স্টোর’ অথবা খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ডিজিটাল কোডের মাধ্যমে কিনে ডাউনলোড করতে হবে।
সনি জানিয়েছে, গ্রাহকদের পছন্দ ও অভ্যাসের পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে ডিস্ক বা সিডির তুলনায় ডিজিটাল গেম বিক্রির পরিমাণ অনেক বেশি। গত বছর সনির মোট গেমিং আয়ের মাত্র ৩ শতাংশ এসেছে সিডি গেম বিক্রি থেকে। তাছাড়া ২০২৪ সালে বাজারে আসা সনির ‘পিএস৫ প্রো’ কনসোলে কোনো সিডি ড্রাইভ না থাকাটাই ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে ভবিষ্যৎ গেমিং কোন দিকে যাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৮ সালের জানুয়ারির আগে বাজারে আসা বা আসার অপেক্ষায় থাকা সিডি গেমগুলোর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না, তবে গেমের বাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হবে ব্যাপক। বিশেষ করে পুরোনো বা সেকেন্ড-হ্যান্ড গেম কেনাবেচার যে একটি বিশাল বাজার রয়েছে, তা পুরোপুরি ধসে পড়বে। কারণ সিডি না থাকলে গেমাররা তাদের খেলা শেষ হওয়া গেমগুলো আর অন্যের কাছে বিক্রি বা অদলবদল করতে পারবেন না। ফলে বড় ধাক্কা খাবে গেমিং সামগ্রী বিক্রির খুচরা দোকানগুলোও।
ইতিমধ্যে গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমস তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘জিটিএ ৬’ গেমটি সিডিতে না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে এই ডিজিটাল যুগের সূচনা করেছিল। সনির প্রতিদ্বন্দ্বী এক্সবক্স-ও দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল মাধ্যমের দিকে ঝুঁকছে। এমনকি সিডি ও কার্টিজ গেম বিক্রিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নিনটেন্ডো-ও এখন ডিজিটাল গেমের দাম কমিয়ে গ্রাহকদের অনলাইনের দিকে উৎসাহিত করছে। গেম সংরক্ষণ ও সংগ্রাহকদের জন্য এটি মন খারাপের খবর হলেও, সনির মতো বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল মডেলে গেম তৈরি ও বিতরণ খরচ অনেক কম।
ডিস্ক বন্ধের পাশাপাশি সনি আরও একটি বড় ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের পুরোনো কনসোল ‘পিএস৩’ এবং হাতের মুঠোয় খেলার কনসোল ‘পিএস ভিটা’-র অনলাইন প্লেস্টেশন স্টোর চিরতরে বন্ধ করে দিচ্ছে। কোনো কোনো বাজারে আগামী আগস্ট ২০২৬ থেকেই এবং যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ২০২৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে এই স্টোরগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এর পর থেকে এই পুরোনো কনসোলগুলোতে আর নতুন কোনো গেম বা কনটেন্ট কেনা যাবে না। তবে আগের কেনা গেমগুলো ব্যবহারকারীরা আরও বেশ কিছুদিন ডাউনলোড করার সুযোগ পাবেন।
সনি তাদের বিবৃতিতে জানায়, পিএস৩ এবং পিএস ভিটা প্লেস্টেশনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল, তাই এই স্টোরগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের জন্য সহজ ছিল না।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





